
দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিট স্ট্রোকে প্রাণহানিসহ পিচের রাস্তা গলে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন গরমের মধ্যে গত ২১ এপ্রিল চ্যানেল ২৪ টিভিতে বাংলাদেশের সিলেটের তাপমাত্রা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে দাবি করা হয়, ‘সিলেটে ৬ দশকেরও বেশি সময় তাপমাত্রা ছাড়ায়নি ৩৮ ডিগ্রির ঘর। সর্বোচ্চ ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি, যা ২০২১ সালে রেকর্ড করা হয়েছে।’
চ্যানেল ২৪ এর ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি আজ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বেলা দুইটা পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৩ হাজার বার দেখা হয়েছে। একই ভিডিও ও তথ্য বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকেও পোস্ট করা হয়েছে।
সিলেটের তাপমাত্রা সত্যিই কী ৩৮ ডিগ্রি পৌঁছায়নি? ২০২১ সালের রেকর্ড করা তাপমাত্রাই কি জেলা শহরটির গত ৬ দশকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা?
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে সংবাদ সংস্থা ইউএনবির ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ১৫ জুলাই ‘৬৬ বছরের মধ্যে জুলাইয়ে সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা!’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১৪ জুলাই সিলেটে ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ওই সময় জেলাটিতে ৬৬ বছরের মধ্যে জুলাই মাসের উষ্ণতম দিনের রেকর্ড।
প্রতিবেদনে সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সর্বশেষ ১৯৫৬ সালের জুলাই মাসে সিলেটে এ ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই সিলেটের তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
পরে আরও খুঁজে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজ ২৪ এ ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর ‘৬৫ বছর পর এমন অসহনীয় তাপমাত্রা দেখল সিলেট’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় তিন দিনের ব্যবধানে ৬৫ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে দুবার। ১৪ অক্টোবর সিলেট নগরে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর তিন দিন আগে ১১ অক্টোবর একই পরিমাণ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১৯৫৬ সালের পর সিলেটে এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।
এই রেকর্ডের বিষয় চ্যানেল ২৪ এর প্রতিবেদনেও তুলে ধরা হয়েছে। তবে ২০২২ সালেই তাপমাত্রার এই রেকর্ড দুই দফায় ছাড়িয়ে যায়। প্রথম দফায় ২০২২ সালের ১৩ জুলাই সিলেটে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা ২০২১ সালের রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থেকে বেশি।
দ্বিতীয় দফায় এর পরের দিনই অর্থাৎ ১৪ জুলাই সিলেটে ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা এখন পর্যন্ত সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
উপরোক্ত প্রতিবেদনগুলো থেকে স্পষ্ট, সিলেটে ৬ দশকের বেশি সময় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রির ঘর না ছাড়ানোর এবং একইসঙ্গে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠার তথ্যটি সঠিক নয়।
সিলেটে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম কেন?
এই প্রসঙ্গে জানতে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
তিনি বলেন, এটি মূলত সিলেটের ভৌগোলিক কারণের জন্য। সিলেটের ভৌগোলিক অবস্থানটা এমন যে, একপাশে পাহাড়বেষ্টিত এবং আরেক পাশে বিস্তীর্ণ হাওড়াঞ্চল। এই মৌসুমে বাতাস আসে পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম থেকে। পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিমের বাতাসে অনেক জলীয় বাষ্প থাকে। এই জলীয় বাষ্পকে শীতলকরণে ভূমিকা রাখে হাওড়াঞ্চল।
এই জলীয় বাষ্প বাকিটা শীতল হয় সিলেটের পূর্বদিকে থাকা বড় বড় পাহাড়ের কারণে। পাহাড়ের ওপর তাপমাত্রা কিন্তু অনেক কম থাকে। জলীয় বাষ্পগুলো এই পর্যন্ত এসে আরও শীতল হয়, যার ফলে সেই জলীয় বাষ্পগুলো মেঘে পরিণত হয়, যার ফলে সিলেটে বৃষ্টি হয় এবং বৃষ্টি হলেই তাপমাত্রা কম থাকবে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বলিউড তারকা শাহরুখ খান,সালমান খান ও আমির খান ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেছেন— এমন দাবিতে কিছু ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শনিবার (১ মার্চ) ভোরে নিজ কার্যালয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের ছবি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স-এ।
২ ঘণ্টা আগে
‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১ দিন আগে