
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ বছর পর ভোট দিয়েছেন।
গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি Sylhet News1 নামের একটি ফেসবুক পেজে সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে ‘১৫ বছর পর নিজের ভোট দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ’ শিরোনামে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ১২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে বলতে শোনা যায়, ‘১৫ বছর পরে ভোট দিলাম। অনেকদিন দিতে পারি নাই; এটা একটা আফসোস ছিল যে, মরবার আগে আর দিতে পারি কিনা।’
প্রচারিত দাবিতে ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে।
আজকের পত্রিকা ফ্যাক্টচেকের অনুসন্ধানে ‘Nagorik TV’ ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও
খুঁজে পাওয়া যায়। প্রচারিত ভিডিওর সঙ্গে এই ভিডিওর মিল রয়েছে। তবে যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়; বরং ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কার।
‘নাতনিকে নিয়ে ১৫ বছর পর ভোট দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ’ শিরোনামে নাগরিক টিভির ৪ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওর ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড থেকে ৪২ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। ভিডিওটির প্রথম অংশে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বাম পাশে আমার নাতনি। সে এবার প্রথম ভোট দিয়েছে, আর আমার মনে হয় শেষ।’
এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতির নাতনি বলেন, ‘না, না, পাঁচ বছর পর তুমি আবার ভোট দেবে, আমরা একসঙ্গে ভোট দেব।’ এর উত্তরে আবদুল হামিদ বলেন, ‘পাঁচ বছর বাঁচলে তো...!’
এছাড়া ভিডিওতে সাবেক রাষ্ট্রপতির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাঁরা বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভোট দিতে পেরে তাঁরা খুব খুশি ও গর্বিত।

ভিডিওতে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল হামিদের বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিককেও কথা বলতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘১৫ বছর পর ভোট দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামে ২০২৪ সালেরদৈনিক যুগান্তরের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৭ জানুয়ারি (রোববার) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তাঁর পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই নাতনিসহ এসে ভোট দেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আবদুল হামিদ সর্বশেষ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রবীণ এই রাজনীতিক।
আরও অনুসন্ধানে ‘১৫ বছর পর কেন্দ্রে এসে ভোট দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানো একই তথ্য পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে আজকের পত্রিকার কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্যাক্টচেক টিম। তিনি জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ তাঁর পরিবারের সবাই আত্মগোপনে আছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ভোট দেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়।

‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১৪ ঘণ্টা আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
২ দিন আগে
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
৩ দিন আগে