
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দশের মধ্যে অবস্থান করছে ভারত উপমহাদেশের তিন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলো। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার তালিকার শীর্ষ দশে অবস্থান করছে দিল্লি, ঢাকা, লাহোর ও কলকাতা।
দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সংকটে ভুগছে রাজধানী শহর ঢাকা। আজ বুধবার ঢাকার বাতাস খুব অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে।
বায়ুমান নিয়ে কাজ করা সুইস প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের আজ সকাল ১০টার রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার বায়ুমান ২৩৫। যা খুব অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। বায়ুদূষণের তালিকায় আজ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা।
ঢাকার যেসব এলাকায় বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি—পল্লবী দক্ষিণ, বেজ এজওয়াটার আউটডোর, ইস্টার্ন হাউজিং, কল্যাণপুর ও গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।
ঢাকার নিম্নমানের বাতাসের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ বা সূক্ষ্ম কণা। এই অতিক্ষুদ্র কণাগুলো, যাদের ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়েও কম, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে হাঁপানি (অ্যাজমা) বৃদ্ধি, ব্রঙ্কাইটিস এবং হৃদ্রোগের মতো শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
শীতকালীন আবহাওয়ার ধরন, যানবাহন ও শিল্প থেকে অনিয়ন্ত্রিত নির্গমন, চলমান নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধুলো এবং আশপাশের ইটভাটাগুলো এই দূষণ সংকটের জন্য দায়ী।
দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে থাকা ভারতের দিল্লির বায়ুমান আজ ২৮৩, যা খুব অস্বাস্থ্যকর বাতাসের বাতাসের নির্দেশক। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য শহরগুলো হলো পাকিস্তানের লাহোর (২৩০), ভারতের কলকাতা (২০৩) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (২০২)।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।
বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়
অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।
সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।
যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।
ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।

প্রকৃতিতে শীতের রেশ পুরোপুরি কেটে গেছে। তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুত। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও বান্দরবানে— ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সোমবার যা ছিল রংপুরে ১৬ দশমিক ৩।
২ ঘণ্টা আগে
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে থাকবে
৬ ঘণ্টা আগে
সদ্য বিদায় নেওয়া ফেব্রুয়ারি মাসে তুলনামূলক বৃষ্টি কম হয়েছে। ফলে এই মাস স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণও ছিল। চলতি মার্চ মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় গরম বেশি থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুধু তা-ই নয়, এ মাসের শেষদিকে দু’একটি তাপপ্রবাহও বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে ধেয়ে আসতে পারে একাধিক কালবৈশাখী ঝড়ও।
১৬ ঘণ্টা আগে
রাজধানী ঢাকায় আজ শনিবার সকালে তাপমাত্রা আগের দিন শুক্রবারের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি কমেছে। গতকাল সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ একই সময় হয়েছে ১৮ দশমিক ৫। তবে আজ দিনের বেলা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
২ দিন আগে