Ajker Patrika

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে—বলছেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে—বলছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর দেশ যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তাতে আরও মার্কিন সেনার মৃত্যু হওয়ার ‘আশঙ্কা’ আছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রোববার সকালে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় মান সময় বা ইএসটি সময় সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৩ মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন সামান্য শ্রাপনেল (বোমার টুকরো) আঘাত ও মস্তিষ্কে আঘাত (কনকাশন) পেয়েছেন।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের অগাধ ভালোবাসা ও চিরন্তন কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দুঃখজনকভাবে, এটি শেষ হওয়ার আগে আরও মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি এমনই।’ তিনি যোগ করেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে তবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব যাতে তেমনটা না ঘটে।’

সেন্টকমের তথ্যমতে, শনিবার ইএসটি সময় রাত ১ টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। এতে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান; এফ-১৬, এফ-১৮ এবং এফ-২২ যুদ্ধবিমান এবং এম-১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

সেন্টকম রোববার জানায়, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) যৌথ ও মহাকাশ বাহিনীর সদর দপ্তর, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সাইট এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

সেন্টকম সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে আইআরজিসি সদর দপ্তর এবং ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইটে হামলার ভিডিও শেয়ার করেছে। ট্রাম্প আরও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নয়টি নৌ জাহাজ এবং নৌবাহিনীর ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুতে আনন্দ প্রকাশ করে তাঁকে ‘অভিশপ্ত এবং জঘন্য ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন তাঁর হাতে ‘শত শত, এমনকি হাজার হাজার আমেরিকানদের রক্ত লেগে ছিল।’

খামেনির মৃত্যুর পর, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি অনুসারে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ এখন ইরান পরিচালনা করছে। এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ফকিহ সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি এবং ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই।

তবে ট্রাম্প রোববার পুনরায় আইআরজিসি, সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশকে ‘অস্ত্র ত্যাগ করার’ আহ্বান জানান, অন্যথায় ‘নিশ্চিত মৃত্যুর’ মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প ইরানের জনগণকে ‘এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে’ নিজ দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানান। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসলামিক রিপাবলিক ইরান শাসন করছে এবং এ বছরের শুরুর দিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনসহ বারবার ভিন্নমতকে কঠোরভাবে দমন করেছে।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘সাহসী হোন, নির্ভীক হোন, বীরত্বের সাথে আপনাদের দেশ ফিরে নিন। আমেরিকা আপনাদের সাথে আছে। আমি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা রক্ষা করেছি। বাকিটা আপনাদের ওপর নির্ভর করবে, তবে আমরা সাহায্যের জন্য সেখানে থাকব।’

রোববার ডেইলি মেইলকে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানে মার্কিন এই অভিযান শেষ হতে আনুমানিক চার সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি বলেন, এটি সবসময়ই একটি চার সপ্তাহের প্রক্রিয়া ছিল। আমরা হিসেব করেছি যে এটি চার সপ্তাহের মতো সময় নেবে। এটি একটি বিশাল দেশ, তাই এটি চার সপ্তাহ সময় নেবে—বা তার চেয়েও কম।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

৭৭৭ কোটি টাকার কাজে ৯ শতাংশ ঘুষ চান ভিসি

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

যুদ্ধে জড়াল হিজবুল্লাহ, কিন্তু এখন কেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত