এসক্রো সিস্টেমের নামে ই-কমার্স গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ করাসহ সাত দফা দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যৌথ মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন ও কিউকম কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন।
মানববন্ধনে গণমাধ্যম কর্মীদের বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবিদ খান বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এসক্রো সিস্টেম চালু করা হলেও এটিই এখন গ্রাহক ভোগান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসক্রো সিস্টেমকে অটোমেটিক এবং ডিজিটাল করতে হবে। প্রয়োজনে এসক্রো সিস্টেম ড্যাশবোর্ডে কাস্টমার, মার্চেন্ট, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট গেটওয়ে, ব্যাংক সবার অ্যাক্সেস দিতে হবে। ই-কমার্সে চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং নিরাপদ ই-কমার্স পরিচালনার জন্য কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে।
মানববন্ধনে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী পঞ্চাশোর্ধ্ব মোস্তাক হোসেন জানান, পেনশনের ১১ লাখ টাকা দিয়ে দশটি পালসার বাইক অর্ডার করেছিলেন কিউকমে। সেই টাকা এখন আটকা রয়েছে পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম ফ্রস্টারে।
দুই বাইকের দুই লাখ টাকা আটকে আছে জানিয়ে নুর আলম রতন নামে আরেক গ্রাহক বলেন, মিডিয়ায় এসেছে পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফ্রস্টার বলেছে কিউমের টাকা তাদের কাছে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমতি দিলে এই টাকা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এখন আমরা চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত টাকাটা আমাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাবস্থা করুক।
মানববন্ধনে দুই অ্যাসোসিয়েশনের দাবিগুলো হচ্ছে—কোনো ই-কমার্স বন্ধ না করে আইনি কাঠামোয় আনা; সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩ / ৪ কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া; প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে গেটওয়েতে দাবি করলেই ফেরত দিতে হবে; পেমেন্ট গেটওয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করলে বা সেবা দিতে ব্যর্থ হলে দায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে; পেন্ডিং অর্ডার ডেলিভারি করার জন্য সরকারের কঠোর নজরদারির মধ্যে সরবরাহের সুযোগ দেওয়া; নতুন ই-কমার্সের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে অথবা ডিসকাউন্ট ভেল্যুর সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হবে; এসক্রো পদ্ধতিকে স্বয়ংক্রিয় এবং ডিজিটাল করতে হবে।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ হৃদয়, কিউকম কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জেসি আলম হৃদয়, সাধারণ সম্পাদক আলামিন আহমেদসহ শতাধিক ভুক্তভোগীসহ ই-কমার্স গ্রাহকেরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এসক্রো হলো এমন একটি সেবা বা আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা যেখানে একজন ক্রেতা পণ্য কেনার সময় যে মূল্য পরিশোধ করেন ক্রেতা-বিক্রেতার লেনদেন সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে একটি তৃতীয় পক্ষের কাছে সেই অর্থ জমা থাকে। ক্রেতা তাঁর কাঙ্ক্ষিত পণ্য বা সেবা বুঝে পেয়েছেন এমন নিশ্চয়তা দেওয়া পর সেই তৃতীয় পক্ষ বিক্রেতাকে (বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে) মূল্য পরিশোধ করেন।
ই-কমার্সে লেনদেন ও কেনাকাটা সহজ করতে ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’ প্রণয়ন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৪ জুলাই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। এতে ই-কমার্স লেনদেনে এসক্রো সেবা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও গত জুনের শেষ নাগাদ নির্দেশিকার খসড়া অনুমোদনের পর বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিশ্বব্যাপী এসক্রো কখনও বাধ্যতামূলক পরিষেবা হিসেবে গণ্য করা হয় না। এটি গ্রাহকদের জন্য একটি বিকল্প পন্থা। ফাস্ট কমার্স, যেমন রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, গ্রোসারি ডেলিভারি, মোবাইল রিচার্জ, সার্ভিস ডেলিভারি বা ইউটিলিটি, এডুকেশন ফি, টিকেটিং (বাস, এয়ার, ট্রেন, লঞ্চ) বা হোটেল বুকিংয়ের সাইটগুলোর জন্য এসক্রো বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:

ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চাঁদাবাজির টাকা আদায়ের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
৬ দিন আগে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা সিটি ডেভেলপার্স হাউজিং ও একেপিচ টাওয়ার মার্কেটে চাঁদা দাবি করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া মো. ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর তাঁকে ঘটনাস্থল এলাকায় ঘুরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। আজ রোববার দুপুরে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের একটি দল তাঁকে ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
৮ দিন আগে
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থের বড় অংশ অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যয় করা হয়েছে। তবে ওসি দাবি করেছেন, একটি চক্র তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এসব
৯ দিন আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে মাহিন ইসলাম (১৫) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক কিশোরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে