Ajker Patrika

ভিকারুননিসার ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে এনসিপি-বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি

­হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ২৩: ০৯
ভিকারুননিসার ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে এনসিপি-বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি
প্রতীকী ছবি

ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী ৮ মার্চ লঞ্চের কেবিনে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এনসিপি ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিছিল মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে আহত হন সাতজন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌরসভা যুবদল নেতা আশিক, সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপর দিকে হাতিয়া উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব ও সমর্থক জহির উদ্দিন আহত হন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, ৮ মার্চ দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া ফারহান-৪ লঞ্চের কেবিনে কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তাঁর বাবা। ঠিক একই সময় ওই লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পর তাঁরা ওই কলেজছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন।

এরপর তাঁরা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে তাঁর বেডে বসেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর গলা ও মুখ চেপে ধরেন। এ সময় মিঠু তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় ঢাকার কোতোয়ালি থানা মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী চিৎকারের চেষ্টা করলে সাকিব উদ্দিন ঘটনাটি কাউকে জানালে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগী চিৎকারের চেষ্টা করেন। তখন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তাঁরা আবারও ধর্ষণ করে। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। ঘটনার পর ৯ মার্চ সোমবার সকালে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) এবং একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)।

লঞ্চে ধর্ষণ ও ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

ইরানের স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের দুর্বলতা ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের শক্তিমত্তা

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি, বিপুল পরিমাণ হাড়সহ গ্রেপ্তার ৪

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত