Ajker Patrika

পিকে হালদারের কুমিরের খামার বিক্রি হলো ৩৮ কোটি টাকায়

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
পিকে হালদারের কুমিরের খামার বিক্রি হলো ৩৮ কোটি টাকায়

ঋণ কেলেঙ্কারির হোতা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রতিষ্ঠিত আলোচিত সেই কুমির খামারটি বিক্রি করা হয়েছে। দুই দফা নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উদ্দীপন’ খামারটি ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় কিনে। 

ঋণ পরিশোধ না করায় খামারটি বিক্রি করেছেন নন—ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৪ সালে ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামে ১৫ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয় দেশের প্রথম বাণিজ্যিক কুমিরের খামার রেপটাইলস ফার্ম। ১৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ে খামারের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন মুশতাক আহমেদ। আর ৩৬ শতাংশ মালিকানা নিয়ে সঙ্গে ছিলেন মেজবাহুল হক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ প্রকল্পের ঋণ নেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তখন শেয়ার ছিল ৪৯ শতাংশ। 

 ২০১২ সালে খামারের সব শেয়ার কিনে মালিকানায় চলে আসেন পিকে হালদার। ২০১৩ সালে খামার সম্প্রসারণ করতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড থেকে ৪ কোটি ২৮ লাখ মূল্যের ১৩ দশমিক ৪ শূন্য একর জমি বন্ধকের বিপরীতে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ঋণ নেন তিনি। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ফার্মের নামে ঋণ বাড়ানো হয়। এখন বকেয়া খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। 

এদিকে ২০১৯ সাল থেকে ফার্মের ব্যবস্থাপনায় থাকা ব্যক্তিদের অনুপস্থিতির কারণে বকেয়া ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারছিল না ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস। এ ছাড়া অব্যবস্থাপনা, খাদ্যঘাটতি এবং ফার্মের আর্থিক সংকটের কারণে খামারে কমতে থাকে কুমিরের সংখ্যা। পরে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত বছরের মার্চে ছয় সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে। 

খামার পরিচালনায় পরিচালকের দায়িত্ব পান ড. নাঈম আহম্মেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কুমির বিশেষজ্ঞ এনাম হক। পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়, রেজাউল সিকদার, ড. মো. রফিকুল আলম, ফখরুদ্দিন আহম্মেদ এবং শেখ মো. আব্দুর রশিদকে। 

ভালুকা রেপটাইল ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনাম হক বলেন, ‘আমি নিজে একজন কুমির বিশেষজ্ঞ। দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেক কুমির নানা রোগ—বালাইয়ে আক্রান্ত ছিল। তা সারিয়ে তুলতে সক্ষম হই। সংকট কাটাতে চলতি বছরের শুরুতে চালু করি টুরিজম। ১ হাজার ৭০০ কুমির থেকে এখন কুমিরের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। রপ্তানি যোগ্য কুমিরের সংখ্যা রয়েছে ৪৫০ টির মতো। খামারটি নিলামে বিক্রি হয়েছে। তবে আমরা এখনো কোনো চিঠি পায়নি। নতুন যারা দায়িত্বে আসবে তারা যদি মনে করে আমার সহযোগিতা দরকার তা আমি সর্বদায় প্রস্তুত আছি। আমি চাই খামারটি টিকে থাকুক।’ 

রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক ডা. আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ২০০৪ সালের ২২ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া থেকে ১৫টি পুরুষ কুমিরসহ ৭৫টি কুমির আনা হয়। এর জন্য ব্যয় হয় প্রায় সোয়া কোটি টাকা। খামারে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার কুমির রয়েছে। বিশ্ব বাজারে কুমিরের চামড়া, মাংস, হাড়, দাঁত চড়া দামে বিক্রি হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে এগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো এই কুমির খামার থেকে ৪০০ চামড়া রপ্তানি হয় জাপানে। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ২৫১টি চামড়া রপ্তানি করা হয়। 

তিনি আরও বলেন, ‘মাঝখানে খামারটি নানা সংকটে ছিল। নতুন পরিচালনা পর্ষদ আসার পর ২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট কেটেছে। খামারটিতে শুরু থেকে রয়েছে। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। খামারটি সুন্দরভাবে চলুক এটাই আমার চাওয়া।’ 

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘রেপটাইল ফার্মের মূল্য ছিল ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আমরা ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মনে করি আশানুরূপ দাম পেয়েছি। এর মধ্যে টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ টাকা উদ্দীপন দিয়েছে। বাকি টাকা তারা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করবে। ইতিমধ্যে টাকা দেওয়া শুরু করেছে। টাকা দেওয়া শেষ হলে আইন অনুসারে খামারটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

রাউজানে ভোটের মাঠ: সম্পদে এককভাবে এগিয়ে গোলাম আকবর, গিয়াসের স্ত্রী-সন্তানেরা ধনী বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী

চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অপরাধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘিরে বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনটি। বিশেষ করে এই উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে দুই নেতার রেষারেষির জেরে গ্রুপিং, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে রক্ত ঝরেছে। এই দুই নেতা এবার ভোটের মাঠেও সবার নজরে রয়েছেন। একই আসনে কেন্দ্র থেকে বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও দলটির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দিয়ে ঝুলিয়ে রাখায় তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ এখনো চূড়ান্ত না হলেও দলের প্রার্থী হিসেবে দুজনই ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

পর্যালোচনায় জানা গেছে, বিএনপির এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে সম্পদের দিকে এককভাবে এগিয়ে আছেন গোলাম আকবর খন্দকার। অন্যদিকে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর চেয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের মিলিত সম্পদের পরিমাণ বেশি। এ ছাড়া গোলাম আকবরের তুলনায় গিয়াস উদ্দিনের নামে মামলার সংখ্যা বেশি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই দুজন প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনায় জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে গোলাম আকবর খন্দকার তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ওপরে। আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৪ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। দুই সন্তানের নামে রয়েছে ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, ঋণপত্রের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমি, পরিবহন, শেয়ার ব্যবসা ইত্যাদি।

একই অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর নামে ১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার ওপর সম্পদ দেখান। তিনি পেশায় নিজেকে ব্যবসায়ী দেখিয়েছেন। তবে গিয়াসের স্ত্রী ও তিন সন্তানের নামে সম্পদের পরিমাণ বেশি। তাঁর স্ত্রীর নামে ৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা, তিন সন্তানের মধ্যে সাকের কাদের চৌধুরীর নামে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। এ ছাড়া আরও দুই সন্তানের নামে রয়েছে ৬ কোটি টাকার সম্পদ। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে জমা, ঋণপত্র। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাউজানে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমি, শেয়ার ব্যবসা ইত্যাদি রয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দায়ের হওয়া ১৭টি মামলার সব কটিতে তিনি খালাস পেয়েছেন। যেগুলো বেশির ভাগ ছিল রাজনৈতিক মামলা। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি মামলা চট্টগ্রাম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, সব মামলায় তিনি স্থায়ী জামিনে আছেন। একটি মামলা উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে গোলাম আকবর খন্দকারের নামে বিভিন্ন সময় হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক ও বিশেষ আইনে সাতটি মামলা দায়ের হয়েছিল। চলতি বছর শুরুতে একে একে ৬টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। একটি মামলা ফাইনাল রিপোর্ট আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে শুরুতে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমার কয়েক দিন আগে একই আসনে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আগের প্রার্থী বাতিলের বিষয় স্পষ্ট করা হয়নি কেন্দ্র থেকে। এতে গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দুজনই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে তাঁর সন্তান সাকের কাদের চৌধুরী রাউজান উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে গোলাম আকবর খন্দকার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

গত বছর অভ্যুত্থানের আগে রাউজান উপজেলার তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাঁর ভয়ে সবাই তটস্থ থাকত বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত উপজেলাটিতে অভ্যুত্থানের পর পুরোনো ধারা যেন আবার ফিরে আসে। বিশেষ করে উপজেলাটিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় দুই নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের মধ্যে বিরোধ সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা জিইয়ে রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাউজানে অনেকগুলো আলোচিত হত্যাকাণ্ড এই দুই নেতা ও তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের জেরে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠেও এখন বিএনপির এই দুই নেতা মুখোমুখি অবস্থায় আছেন।

একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
খোকন দাস। ছবি: সংগৃহীত
খোকন দাস। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খোকন দাস (৫০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

খোকন দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের পরেশ দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙ্গা বাজারে ফার্মেসি এবং মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) এজেন্টের ব্যবসা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন দাস। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তিন-চারজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে হামলাকারীদের চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা তাঁর শরীর ও মুখে পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খোকন দাসের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগে দগ্ধ খোকন দাসের একটি ভিডিও বক্তব্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করতে শোনা যায়। পুলিশ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছে বলে জানিয়েছে।

আহত ব্যক্তির স্ত্রী সীমা দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে এসে দেখি, আমার স্বামীর শরীরে আগুন জ্বলছে। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ। যারা আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, রোগীর মাথা ও হাত আগুনে পোড়া রয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পেটে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, ‘ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে ধরার জন্য সারা রাত অভিযান চালানো হয়েছে। দ্রুত তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

বছরের প্রথম দিনেই পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা কমে এক অঙ্কের ঘরে, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
কুয়াশার মধ্যে সড়কে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আজকের পত্রিকা
কুয়াশার মধ্যে সড়কে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আজকের পত্রিকা

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তি থাকার পর বছরের প্রথম দিনেই হঠাৎ কমে গেছে। জেলায় তাপমাত্রা ফের এক অঙ্কের ঘরে নেমেছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তোলে। আগের দিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশার ভোর পেরিয়ে ঝলমলে রোদ নিয়ে সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে জেলার প্রকৃতি। রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে জনজীবন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ করা গেছে।

এদিকে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সর্দি-কাশি, ঠান্ডাজনিত জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে রোগীর সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যাদের বেশির ভাগ শিশু ও প্রবীণ।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়সী ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি সবাইকে গরম কাপড় ব্যবহার, সকাল ও সন্ধ্যায় অপ্রয়োজনে বাইরে কম বের হওয়া এবং গরম পানি পান করার পরামর্শ দেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গত এক সপ্তাহে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ করা গেছে। গত বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি, মঙ্গলবার ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি, সোমবার ১২ ডিগ্রি এবং রোববার ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আজ তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের তাপমাত্রার ঘরে পড়ে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

রাজশাহীতে কলার হাটে উল্টে পড়ল ড্রাম ট্রাক, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ১৬
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে একজনের লাশ কোলে নিয়ে আহাজারি
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে একজনের লাশ কোলে নিয়ে আহাজারি

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাটে উল্টে যাওয়া বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম, পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনকের প্রামানিক, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ঝলমলিয়ায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে কলার হাট বসে। কুয়াশার কারণে সকালে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেখানে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। আর পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে তিনজনের লাশ পায়। নিহত ব্যক্তিরা কলা ব্যবসায়ী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আছেন। সেখানে তিনটি লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর আহত একজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্স জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত