Ajker Patrika

ফরিদপুরে মাদক বিক্রি না করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে মাদক বিক্রি না করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩
নিহত রাজু। ছবি: সংগৃহীত

একসময় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অন্ধকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন রাজু শেখ (৩৮)। কিন্তু স্থানীয় মাদক কারবারিদের হাতে শেষরক্ষা হলো না তাঁর। মাদক বিক্রি না করায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর স্টেশন বাজার এলাকায় রাজু শেখকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাজু শেখ পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর রেলবস্তির কুটিবাড়ি এলাকার বাবলু শেখের ছেলে। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভায় কাজের পাশাপাশি রাজু একসময় মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন। তবে দুই ছেলের (১০ ও ৫ বছর) ভবিষ্যতের কথা ভেবে সম্প্রতি ওই পথ থেকে সরে দাঁড়ান। এর পর থেকে স্থানীয় একটি চক্র তাঁকে পুনরায় মাদক বিক্রিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। মাদক বিক্রি না করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সম্প্রতি এক অভিযানে কয়েকজন মাদক কারবারি আটক হওয়ার ঘটনায় রাজুকে সন্দেহ করা হয় বলেও দাবি পরিবারের।

নিহত রাজু শেখের মা ছবি খাতুন ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বলেন, স্থানীয় মাদক কারবারি শিল্পী বেগম ও তাঁর মেয়ে মহুয়া আক্তার ওরফে মেহু সম্প্রতি রাজুকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যান। এরপর গতকাল রাত ১০টার দিকে মহুয়া আক্তার ওরফে মেহুর স্বামী হৃদয় শেখের নেতৃত্বে স্থানীয় আরেক মাদক কারবারি সাহেদা বেগমের ছেলে স্বপ্ন এবং রবিউল ও মারুফসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

নিহত রাজুর স্বজনেরা আহাজারি করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
নিহত রাজুর স্বজনেরা আহাজারি করছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ছবি খাতুন আরও বলেন, প্রথমে রাজুর মুখে গুঁড়াজাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া। এরপর দুই পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্মমভাবে কুপিয়ে ফেলে রাখে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ছবি খাতুন বলেন, ‘গতকাল আমার ছেলেকে ওরা এসে বলল, তুই মাদক বেচবি। ও বলছিল, বেচব না। এরপর ওরা ২২ হাজার টাকা দাবি করে। আমার ছেলে বলছিল, দরকার হয় রিকশা চালিয়ে খাব; এই পথে আর কোনো দিন যাব না। তখন ওরা বলছে, হয়তো তুই হাসপাতালে যাবি, নয়তো জেলখানায়। পরে রাতে এসে ওরা কুপিয়ে মাইর‌্যা ফেলছে।’

এদিকে ঘটনার পর আজ দুপুরে সেখানে ছুটে যান পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাদক-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে রাজুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হৃদয় নামের একজনের নাম পেয়েছি। যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সকলকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এখানে সুইপার কলোনি ও রেল কলোনি নামে দুটি কলোনি রয়েছে এবং মাদক কেনাবেচা হয়ে থাকে। আমরা প্রত্যেক মাদক কারবারির তালিকা করব এবং সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি রেলবস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে শিল্পী বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ১৫ জন মাদক কারবারিকে আটক করে। অভিযান চলাকালে শিল্পীর বাড়ি থেকে ৪৫.৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৭টি ইয়াবা, ২১১টি হেরোইনের প্যাকেট, ৬১টি দেশীয় অস্ত্র ও ২টি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার কয়েক দিন পরই জামিনে বের হয়ে আসেন শিল্পী বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

৩৫ হাজারের ইরানি ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার

‘লিবিয়া মডেল’ কাজ করছে না ইরানে, বুমেরাং হলো খামেনি হত্যা

ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না স্পেন, চলে গেল মার্কিন যুদ্ধবিমান

ইসরায়েলের চাপেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত