Ajker Patrika

দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: বিছানার ওপর খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগীরা

  • আঘাত পেয়েছেন দুই শিশুর অভিভাবক
  • আতঙ্কে হাসপাতাল ছাড়ছেন অনেকে
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইউএনও
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৫৬
দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: বিছানার ওপর খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগীরা
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিছানায় খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। এতে আতঙ্কে রয়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। অনেকেই ছেড়েছেন হাসপাতাল। গতকাল কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর বিছানায় খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে দিন কাটছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। এই চিত্র কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডের। গত শনিবার হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে আঘাত পেয়েছেন দুই শিশুরোগীর অভিভাবক।

এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে চিকিৎসা না নিয়ে হাসপাতাল ছাড়ছেন অনেকে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত শনিবারের ঘটনায় আঘাত পাওয়া দুজন হলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই শিশুর মা লাইলি বেগম ও মৌসুমী আক্তার। লাইলি বেগম বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা ভেঙে আমার গায়ে ও বিছানার ওপর পড়ে। বাবু পাশে থাকায় আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন।’

অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মুরাদনগর থেকে আসা মৌসুমী আক্তার। তিনি জানান, পলেস্তারা খসে তাঁর পায়ের ওপর পড়ে।

দুই শিশুসন্তানের চিকিৎসার জন্য এসেছেন শিল্পী আক্তার নামের এক নারী। জানালেন, ওই ঘটনার পর থেকে বাচ্চাকে হাসপাতালের বিছানায় শোয়াতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। আবার বেসরকারি ক্লিনিকেও বেশি টাকা দিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব নয়।

জ্বর-ঠান্ডায় আক্রান্ত দুই বছরের শিশুকে নিয়ে এসেছেন উপজেলার হেতিমপুর গ্রামের নাহিদা ইসলাম। তিনি বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ওপর এভাবে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ভয়ংকর। পুরো ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ।

শুধু রোগী ও তাদের স্বজনেরাই নন, শঙ্কিত হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরাও। ওয়ার্ড বয় আরিফ হোসেন বলেন, কিছুদিন পর পর এখানে পলেস্তারা খসে পড়ে। শুধু রোগীরা নয়, আমরাও ঝুঁকির মধ্যে আছি। কিছুদিন আগে এই ওয়ার্ডে কনসালট্যান্ট সুব্রা দত্ত ম্যাডাম রোগী দেখতে এসে অল্পের জন্য রক্ষা পান। সেই থেকে তিনি এখানে খুব কম আসেন। ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনের কথা জানালেন সিনিয়র স্টাফ নার্স সুরাইয়া আক্তার।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার কবির হোসেন জানান, পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে (এইচইডি) চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী এসে পরিদর্শন করে গেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত