Ajker Patrika

‘আফ্রিকার দুই দেশে চাঁদ দেখা গেছে’, চাঁদপুরে ৭ মুসল্লির ঈদ উদ্‌যাপন

চাঁদপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪৮
‘আফ্রিকার দুই দেশে চাঁদ দেখা গেছে’, চাঁদপুরে ৭ মুসল্লির ঈদ উদ্‌যাপন
আজ সকালে হাজীগঞ্জের বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে সাতজনের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : আজকের পত্রিকা

সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন হয়ে আসছে। তবে এ বছর ঘটেছে ব্যতিক্রম এক ঘটনা। হাজীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র সাতজন মুসল্লি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দিন আগেই ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাইকে ‘ঈদ মোবারক’ ঘোষণা দিয়ে একটি ছোট জামাতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর ছেলে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা এই নামাজে অংশ নেন। জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লি সংখ্যা ছিল মাত্র সাতজন।

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের চেয়েও এক দিন আগে ঈদ উদ্‌যাপনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে চাঁদ দেখার তথ্যের ভিত্তিতে। বিশেষ করে আফগানিস্তানসহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি ও নাইজারে চাঁদ দেখার খবরকে কেন্দ্র করে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। ওই দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে প্রথমবারের মতো চাঁদপুরের এই অংশে আগাম ঈদ উদ্‌যাপন করা হলো।

এ বিষয়ে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘নাইজার, মালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখা গেছে। ইসলাম একটি বৈশ্বিক ধর্ম, চাঁদও একটি। তাই ঈদও একই দিনে হওয়া উচিত। সেই বিশ্বাস থেকেই আমরা আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছি।’

তবে দরবারের আরেক অনুসারী ইয়াহিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। যারা নামাজ আদায় করেছে, তারা চাঁদ দেখার তথ্যকে গ্রহণযোগ্য মনে করেছে। কিন্তু আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, আফগানিস্তানে ওই সময় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা ছিল না। তাই আমরা সেটি গ্রহণ করিনি।’

প্রসঙ্গত, বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তিতে আগাম রোজা ও ঈদ উদ্‌যাপনের প্রচলন শুরু হয় চাঁদপুরে। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের অনুসারীরা ১৯২৮ সাল থেকে দীর্ঘ ৯৮ বছর ধরে রোজা ও ঈদ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে উদ্‌যাপন করে আসছে। এরপর এমন আগাম ঈদের প্রসার ঘটে জেলার অর্ধশত গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। শুরুর দিকে এ নিয়ে মতবিরোধ ও স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দিলেও এখন স্বাভাবিকভাবেই চলে উৎসব আয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত