Ajker Patrika

কম পরিশ্রমে বেশি লাভের পরও শরণখোলায় কমেছে কলাইয়ের চাষ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১: ৪৭
কম পরিশ্রমে বেশি লাভের পরও শরণখোলায় কমেছে কলাইয়ের চাষ
দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামে কলাইখেত। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামের উদ্যমী যুবক মেহেদী হাসান এবার পাঁচ বিঘা জমিতে কলাইয়ের (খেসারি ডাল) চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে বীজ ও সার বাবদ তাঁর খরচ হয়েছে মাত্র দুই হাজার টাকা। পাঁচ বিঘা জমিতে মোট খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় মণ করে মোট ৩০ মণ কলাই উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।

যার বাজারমূল্য হবে ৬০ হাজার টাকা। তুলনামূলক কম বিনিয়োগ ও কম পরিশ্রমে কলাইয়ের ভালো উৎপাদন ও দাম পাওয়া যায় বলে জানান মেহেদী হাসান। এতে চাষিরাও অধিক লাভবান হতে পারে। তাঁর মতে, আমন ধান ওঠার পরেই খালি মাঠে কলাইয়ের বীজ ছড়িয়ে দিলেই হয়। তেমন কোনো সার বীজের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না পানি সেচের। তুলনামূলক কম পরিশ্রমেই ফসল ঘরে তোলা যায়। পাঁচ বিঘা জমিতে ১০ হাজার টাকা খরচ করে এবার তার লাভ ৫০ হাজার টাকা হবে বলে জানান তিনি।

মেহেদীর প্রতিবেশী চাষি হারুন হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার ও মুকুল হাওলাদারও একই রকম লাভের আশা করছেন। হারুন হাওলাদার বলেন, আমন ধান ওঠার পর খালি জমিতে কলাই বীজ বিছিয়ে দিয়েছি। জমি চাষের প্রয়োজন হয় না, পানি সেচ দিতে হয় না। তেমন কোনো সার বা ওষুধেরও প্রয়োজন হয় না। তুলনামূলক কম পরিশ্রমে এ ফসলটি ঘরে তোলা যায়।

মুকুল হাওলাদার বলেন, ‘কলাই (খেসারি ডাল) একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। আর এর বাজারদরও ভালো পাওয়া যায়। তাই আমরা প্রতিবছর জমিতে কলাই চাষ করি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেবব্রত সরকার বলেন, এবার শরণখোলা উপজেলায় কলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টরে। এতে ১ হাজার ২৬০ টন খেসারি ডাল উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গত বছর শরণখোলায় কলাইয়ের চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এবার তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৫০ হেক্টরে। কম পরিশ্রমে বেশি লাভের পরেও এ ফসল চাষের হার কমে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কলাই চাষের উপযুক্ত জমিতে চাষিরা এবার বোরো ধানের চাষ করেছে। বোরো ধানের চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়ায় কলাইয়ের চাষ নেমে এসেছে তিন ভাগের এক ভাগে। বোরো চাষে অনেক চাষির ভাগ্যোন্নয়ন হওয়ায় অন্যান্য চাষিরাও বোরো চাষে মনোযোগী হয়েছে। তাই কলাইসহ অন্যান্য রবিশস্য চাষে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বেশ কিছু জমি পতিত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দেবব্রত সরকার বলেন, মিষ্টি পানির অভাবে এখানে এখনো অনেক জমি পতিত থাকে। তবে ফসলি জমিসংলগ্ন খালগুলো খননের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কিছু খাল খনন শুরু হয়েছে। চাষিদের চাহিদা মতো খাল খনন করা গেলে শরণখোলার প্রত্যেক ইঞ্চি জমিতে নতুন নতুন ফসল ফলানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, দীর্ঘদিন শরণখোলার চাষিরা এক ফসলের ওপরে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সিডরের পর সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে তারা নতুন নতুন চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এখানে কোনো কোনো জমিতে এখন তিন ফসল ও চাষ হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আটক ৩ ট্যাংকার ফেরত দিলে ভারতকে হরমুজে যাতায়াতের সুযোগে দেবে ইরান

কফি পানের ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি, নেতানিয়াহু কি তবে মারা গেছেন

এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান

র‍্যাবের নতুন ডিজি আহসান হাবীব, এসবি প্রধান নুরুল আমিন, সিআইডি প্রধান মোসলেহ উদ্দিন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত