Ajker Patrika

মধুপুরে পরিবহনসংকটে রাজধানীমুখী মানুষের চরম ভোগান্তি

আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মধুপুরে পরিবহনসংকটে রাজধানীমুখী মানুষের চরম ভোগান্তি
গণপরিবহন সংকটে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পিকআপ, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশায় গাদাগাদি করে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরিবারের মায়া কাটিয়ে যান্ত্রিক শহরে ফিরতে কর্মজীবী মানুষের ঢল নেমেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে। এদিকে একসঙ্গে এত মানুষ পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। অতিরিক্ত টাকা ভাড়া দিয়েও খোলা ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার পথ ধরছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের হাজারো মানুষ। অনেকে বাস না পেয়ে পিকআপ, মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাজধানীর উদ্দেশে ছুটে চলছেন। কেউ কেউ পরিবহন না পেয়ে বাধ্য হয়েছেন বাড়ি ফিরে যেতে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ-জামালপুর—এই তিন জেলার মধ্যবর্তী এলাকা মধুপুর। বাণিজ্যিকভাবে সমৃদ্ধ উপজেলা শহর মধুপুর এমনিতেই ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকে। ব্যস্ত মধুপুর বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে প্রতিদিন ২৩ জেলার শত শত দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে। মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে অন্তত ৩৫০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ী, ভালুকা, সখীপুর, ভরাডোবা, কালিহাতী, গোপালপুর ও ভূঞাপুর প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করে থাকে। এ ছাড়া শতাধিক মাহিন্দ্রা চলাচল করে আন্তউপজেলায়। বিভিন্ন উৎসব বা লম্বা ছুটি পেলে কর্মজীবী মানুষেরা নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন। তবে নিকটজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে প্রতিবারই নাকাল হতে হয় তাঁদের।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, গত বুধবার থেকে ধীরে ধীরে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আজ সকালে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে জনতার ঢল নামে। দুপুরের মধ্যেই মধুপুর ও ধনবাড়ী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত সব গাড়িই যাত্রী নিয়ে চলে যায়। এরপর গাড়ির সংকট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে অনেকেই জামালপুর, শেরপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ীসহ বিভিন্ন সড়কে চলাচলরত গাড়িতে দাঁড়িয়েই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ কেউ মিনি পিকআপ, মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যেতে থাকেন। বিকেল হওয়ার আগেই মধুপুর বাসস্ট্যান্ড সিএনজি ও মাহিন্দ্রাশূন্য হয়ে যায়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী সিএনজি ও মাহিন্দ্রা জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে যাত্রী ভর্তি করে চন্দ্রার উদ্দেশে ছুটে চলে। অবশেষে মাগরিবের আগমুহূর্ত থেকে অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বাড়ি ফিরতে থাকেন।

মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কাউন্টারেই টিকিট মাস্টার নেই। মধুপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার মতো কোনো বাসও নেই। সিএনজি ও মাহিন্দ্রাস্ট্যান্ডও অনেকটা ফাঁকা। দূরপাল্লার বাস দাঁড়িয়ে যাওয়ার শর্তে যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে। তারাও ৫০০-৬০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষেরা পিকআপে যাচ্ছেন। তাও আবার চন্দ্রা পর্যন্ত ৩০০-৪০০ টাকায়।

গণপরিবহন সংকটে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পিকআপ, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশায় গাদাগাদি করে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
গণপরিবহন সংকটে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পিকআপ, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশায় গাদাগাদি করে যাচ্ছেন যাত্রীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকার বাইপাল এলাকায় চাকরি করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বিকেল ৪টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। তিনি কোনো পরিবহনেই কর্মস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারেননি। তিনি জানান, মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়ার মতো কোনো বাস নেই। দূরপাল্লার যেসব বাস আসে, তারা ৫০০ টাকা ভাড়া হাঁকছে। তাও আবার দাঁড়িয়ে যেতে হবে। ওই বাসগুলোও বাসস্ট্যান্ডে দেরি করে না। যে কয়জন পাচ্ছে, তাই নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে চলছে।

ঢাকার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ বলে, ‘মধুপুর থেকে ঢাকার মহাখালীতে যাওয়ার মতো কোনো বাস না পেয়ে ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। আগামীকাল শনিবার সকালে ঢাকায় যাব।’

মধুপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসনাইন বাবুরাজ বলেন, পরিবহনসংকটের মূল কারণ হলো জ্বালানি সংকট। বাসের তেল তুলতে পাম্পে সিরিয়াল দিয়ে থাকতে হয় লম্বা সময়। অনেক সময় তেল পাওয়া যায় আবার অনেক সময় পাওয়া যায় না। ফলে দূরপাল্লার পরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। বাস না থাকায় যাত্রীদেরও ভোগান্তি হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দের দেশের তালিকা প্রকাশ

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

ট্রাম্পের নীতিতে খেপেছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাতে খুঁজছে দুর্বল জায়গা

খারগ দ্বীপের দখলে ভেঙে পড়বে আইআরজিসি, শেষ হবে যুদ্ধ: হোয়াইট হাউস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত