হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানিদের রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর, ‘কচুকাটা’ হওয়ার ভয়ে প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ইরানিদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নামার আহ্বান জানাতে চেয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে বলেন, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও এক ইসরায়েলি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘মানুষকে রাস্তায় নামতে বলার মানে কী, যখন তাদের গুলির মুখে স্রেফ কচুকাটা করা হবে?’ যুদ্ধের সামরিক লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঐকমত্য থাকলেও ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রশ্নে এবং তা ঘটাতে কতটা বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত মেনে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

নেতানিয়াহু যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করাকে ইসরায়েলের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হিসেবে দেখেন, সেখানে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প শাসন পরিবর্তনকে বরং ‘অতিরিক্ত লাভ’ বা বোনাস হিসেবে দেখেন। যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হলে ইরানের জনগণ সরকার নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু এরপর তিনি খুব কমই এই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন।

গত মঙ্গলবার পৃথক হামলায় ইসরায়েল ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান ও কার্যত দেশটির ভারপ্রাপ্ত নেতা আলী লারিজানিকে এবং বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করে। সঙ্গে নিহত হন তাঁর কয়েকজন উপপ্রধানও। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, সোলেইমানিকে হত্যার লক্ষ্য ছিল গণ-অভ্যুত্থান সহজ করা। কারণ, বিক্ষোভ দমন করার দায়িত্ব তাঁর ওপরই ছিল।

এর কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ফোনে জানান, ইরানি শাসনব্যবস্থা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে এবং এটিকে আরও অস্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এবং একটি ইসরায়েলি সূত্র এসব কথা জানিয়েছে। নেতানিয়াহু প্রস্তাব দেন, তিনি ও ট্রাম্প যৌথভাবে ইরানি জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রকাশ্য বিবৃতি দেবেন। সেই সময় ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এমন আহ্বান জানালে তা ‘হত্যাকাণ্ডে’ রূপ নিতে পারে। যুদ্ধের আগেও হাজার হাজার ইরানি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিল।

একটি সূত্র জানায়, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প ঠিক করেন, পরদিন নওরোজের বার্ষিক উৎসবের সময় ইরানিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নামে কি না, তা আগে দেখা হবে। এদিকে নেতানিয়াহু নিজেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিমান (ইরানের) সড়ক ও জনসমাগমস্থলে হামলা চালাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য সাহসী ইরানি জনগণকে নওরোজ উৎসব উদ্‌যাপনের সুযোগ করে দেওয়া। তাই বাইরে বের হয়ে উদ্‌যাপন করুন…আমরা আকাশ থেকে নজর রাখছি।’

পরদিন খুব কমসংখ্যক ইরানি রাস্তায় বের হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা এর কারণ হিসেবে শাসনব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনগণের দীর্ঘস্থায়ী ভীতিকে দায়ী করেন। কয়েক দিন পর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার সিএনএনকে বলেন, লক্ষ্য এখনো একই। তা হলো শাসনব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে দুর্বল করা, যাতে বিরোধীদের দমন করার ক্ষমতা তাদের আর না থাকে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আশা করি এতে এমন এক বিস্ফোরণসদৃশ মুহূর্ত তৈরি হবে, যখন জনগণ নিজেদের জীবন নিজেরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে…আমি মনে করি আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে আমরা এই শাসনব্যবস্থাকে এমন পর্যায়ে দুর্বল করতে পারি, যাতে তা ভেঙে পড়ে। কিন্তু মাটিতে যে শক্তি থাকবে, তা হতে হবে ইরানিদেরই।’

সামরিক অভিযান চলমান থাকলেও এবং যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও ট্রাম্প একই সঙ্গে কূটনৈতিক পথও খুঁজছেন, যাতে বর্তমান শাসনব্যবস্থার যা অবশিষ্ট আছে, তা টিকে থাকে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি হওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ইরান ১০টি তেলের ট্যাংকার উপহার দিয়েছে: ট্রাম্প

যুদ্ধ থামানোর দায়িত্ব এখন ইরানের: ট্রাম্প

যুদ্ধ থামাতে চুক্তির জন্য হাতজোড় করছে ইরান: হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে আরও ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ইরানে সেনা পাঠাবেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের মার-এ-লাগোর আসনেই হারল রিপাবলিকানরা

সৌদি আরবে রুদ্ধদ্বার বৈঠক নরম করল ট্রাম্পের সুর, ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

ইরানের সঙ্গে আলোচনার ডামাডোলের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

ট্রাম্পকে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত ‘বড় উপহার’ দিয়েছে ইরান

এপস্টেইনের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন বিলিয়নিয়ার