মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ‘খুব শক্তিশালী আলোচনা’ চলছে বলে দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবর বলছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বরং ইরান সরকার এমন দাবিকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে।
ডিজিটাল নিউজ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে যোগাযোগের কিছু খবর পাওয়া গেলেও তা খুব প্রাথমিক পর্যায়ের। এসব যোগাযোগ মূলত ব্যাকচ্যানেল বা পরোক্ষ যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর সন্দেহ পোষণ করছে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনে আলোচনার প্রচেষ্টা মার্কিন-সমর্থিত ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের অবস্থানকে এমন কঠোর করেছে।
এদিকে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসর সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া ঐতিহ্যগতভাবে ইরানের আস্থাভাজন মধ্যস্থতাকারী ওমানও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইরানের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কিছু গুঞ্জন থাকলেও তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই বৈঠক অনেকটাই অবাস্তব বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একজন ইরানি নেতার খোঁজ করছেন, যিনি আলোচনায় নমনীয় হবেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে ডেলসি রদ্রিগেজ যেমনটি ছিলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জটিল রাজনৈতিক কাঠামোয় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কঠিন। দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোয় ধর্মীয় নেতা ও সামরিক কমান্ডাররা প্রভাবশালী। বর্তমানে কঠোর পন্থীরাই প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষ করতে তাঁরা বড় ধরনের মূল্য দাবি করছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কিছু প্রাথমিক যোগাযোগ বা ইঙ্গিত থাকলেও পূর্ণাঙ্গ বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং সংঘাতের ঝুঁকি রয়েই গেছে।