বিপিএল শেষ হওয়ার দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু ঢাকা ক্যাপিটালস এখনো ক্রিকেটারদের পাওনা টাকা দেয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু তাতে বেজায় বিরক্ত। তাঁর মতে এভাবে করে বিপিএলে দল পরিচালনা করা উচিত না।
২৩ জানুয়ারি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-চট্টগ্রাম রয়্যালস ফাইনাল দিয়ে শেষ হয়েছে বিপিএল। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষ হলেও ক্রিকেটারদের ৩ কোটি টাকা এখনো ঢাকা পরিশোধ করেনি বলে কদিন আগে জানিয়েছিলেন বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। এখন সেই ব্যাংক গ্যারান্টিটা ভাঙাতে চাচ্ছে বিসিবি। ঢাকা ক্যাপিটালস এখনো সময় চাইলেও মিঠু বিরক্ত। আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেন,‘‘আমাকে আজও ফোন করে তারা বলেছে, ‘আমরা টাকা দিয়ে দিচ্ছি। আপনি একটু আমাকে সময় দেন।’ আমি বলেছি, ‘আমার আর সময় দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আপনি যদি টাকা দেন, তাহলে যে ব্যাংক দিবে রিফান্ড করে দেব আমরা।’’
এখন কি ঢাকার এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বিসিবি আগামী বিপিএলে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে—এমন প্রশ্নও করা হয়েছে মিঠুকে। তিনি একই সঙ্গে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিবও। মিঠুর মতে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে হলে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই আসা উচিত। সংবাদমাধ্যমকে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘শুনুন। এরকম যদি আপনাদের নৈতিকতা থাকে যে আপনি ক্রিকেটারদের আপনি এসেছেন একটা দল নিয়ে আপনার সেই পরিকল্পনা করেই আসা উচিত যে সাত দিনের মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষের সাত দিনের মধ্যে আপনার টাকাটা দিয়ে দেওয়া উচিত। আপনি তো কোনোদিন রংপুরের কথা শোনেননি, শুনেছি আমরা? শুনিনি। এবার রাজশাহীর পেমেন্টও দেখেন। কী সুন্দর করে রাজশাহী পারিশ্রমিক দিয়েছে।’
২০২৬ বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সত্ত্বাধিকারী ছিল ট্রায়াঙ্গুলার সার্ভিসেস। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি মালিকানাশূন্য হয়ে পড়ে। এর দায়িত্ব নেয় বিসিবি। মিঠু আজ চট্টগ্রাম রয়্যালসের পাশাপাশি নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কথাও উল্লেখ করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘হ্যাঁ নোয়াখালী তাদের নিরাপত্তা থেকে দিয়েছে। কারণ, নোয়াখালী আমি তিন নম্বরে রাখব, তারপর সিলেটকে রাখব। আর চিটাগাংয়ের পরিস্থিতি তো আপনারা জানেনই যে চিটাগাং যেহেতু নিজের থেকেই নাম প্রত্যাহার করেছিল এবং দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ড নিয়েছে।’
সবকিছু যাচাই-বাছাই করার মতো বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস ফ্র্যাঞ্চাইজি যা করেছে, মিঠুর কাছে এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘শুনুন যদি আমাকে বলেন, আমার এই বছরের অভিজ্ঞতা হচ্ছে কাগজ কলম দেখেই করা হয়েছে কিন্তু। আপনারা জানেন আমরা কিন্তু কী করে তদন্ত করেছি। আমাদের অনেক এজেন্সি জড়িত ছিল তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করতে। তারপর আর্থিক ব্যবস্থা আমরা অডিট কোম্পানি দিয়ে যাচাই করেছি। সব কিছু পাওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি নেওয়া হয়েছে। তারপরে এই যে ঘটনাটা ঘটেছে, ধরুন ঢাকার মধ্যে এত অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার কথাটা হচ্ছে আপনি না পারলে দল নিয়েন না। কিন্তু এই পর্যায়ে এভাবে দল চালানো কারও উচিত না।’