টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। সে ম্যাচে নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে মুগ্ধ স্যামসন। ঝোড়ো ব্যাটিং করার সামর্থ্য থাকায় নিজেদের আগুন বলে দাবি করছেন তিনি।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে উদ্বোধনী জুটিতে ৭.১ ওভারে ৯৮ রান তোলেন স্যামসন ও অভিষেক। তাঁদের দারুণ সূচনার ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত। সেঞ্চুরি করতে না পারলেও ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন স্যামসন। ২১ বল খেলা অভিষেকের অবদান ৫২ রান। শেষ পর্যন্ত আয়োজকেরা ম্যাচটি ৯৬ রানে জিতে নেয়।
এই জয়ে ইতিহাস গড়ে ভারত। প্রথম দল হিসেবে রেকর্ড তিনবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় তারা। পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল তারা। সেই সঙ্গে একমাত্র স্বাগতিক দল হিসেবে শিরোপা জেতার কীর্তি গড়েছে ভারত। ফাইনালের পর স্যামসন জানালেন, অভিষেকের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জুটির মূল শক্তি হলো সহজ ও স্বাভাবিক বোঝাপড়া।
স্যামসন বলেন, ‘আমরা বরফ আর আগুন নই, আমরা আগুন এবং আগুন। কখনো সে আক্রমণ করে, কখনো আমি করি। ২০২৪ সাল থেকে আমরা একসঙ্গে খেলছি। আমাদের মধ্যে কেরালা-পাঞ্জাবি বন্ধুত্বও আছে। সবকিছু খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। আমরা বিষয়গুলো জটিল করি না।’
অভিষেকের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্যামসন বলেন, ‘অভিষেক আমাকে জিজ্ঞেস করে—বলটা কেমন আসছে? আমি বলি, বল ঠিকভাবেই আসছে, ছক্কা মারো। ও খুব সাহসী এবং স্থির মনের ক্রিকেটার। মাঠে ও মাঠের বাইরে তার সঙ্গে জুটি করতে আমি ভীষণ উপভোগ করি।’
পুরো টুর্নামেন্টেই দারুণ ফর্মে ছিলেন স্যামসন। শুরুতে অনিয়মিত পারফরম্যান্স ও বেঞ্চে সময় কাটলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়ে ওঠেন তিনি। ৫ ইনিংসে ৮০.২৫ গড়ে ও ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে স্যামসন করেন ৩২১ রান। ২৭ চারের পাশাপাশি মারেন ২৪টি ছক্কা। তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন স্যামসন।