জাতীয় সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম কেনাকাটা ও পরবর্তী সংস্কারকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২২ সালে সংসদে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর সংস্কারকাজ দুই পর্যায়েই অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুসন্ধানের গতি বাড়াতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন থেকেই সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি নিয়ে অধিবেশনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ কারণে ৫ এপ্রিল প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করতে হয়। পরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভাঙচুর ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার কারণে মাইকের বিভ্রাট তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, পুরো কাজটি অত্যন্ত হেলাফেলার সঙ্গে করা হয়েছে।
সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটিকে ‘গুরুতর’ ও ‘জটিল’ বলে উল্লেখ করে সে সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, অধিবেশন চলমান থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তবে অধিবেশন শেষে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিফ হুইপ দাবি করেন, এসব কাজে নির্ধারিত কারিগরি মানও বজায় রাখা হয়নি। ৩৮ গ্রামের মাইক্রোফোন দেওয়ার কথা থাকলেও ২৫৮ গ্রামের মাইক্রোফোন সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এ প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়ায়ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযোগে সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, সরঞ্জাম সরবরাহ, কারিগরি মান, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সংস্কারকাজে ব্যয়ের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধানে বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে, সরকারি ক্রয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ), ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০০৮ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
এ ছাড়া ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধানে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করেনি কমিশন।
দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র আজকের পত্রিকাকে বলেছে, প্রাথমিকভাবে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। কমিশন গঠনের পর এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের জন্য সুপারিশ করা হবে।