হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ইরানের সঙ্গে আলোচনার ডামাডোলের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের এলিট ৮২ তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মন্ত্রণালয় তথা পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কয়েক হাজার সৈন্য পাঠাতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সামরিক সমাবেশ আরও বাড়ছে।

রয়টার্স ১৮ মার্চ প্রথম জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এতে প্রয়োজনে ইরানের ভেতরেও বাহিনী পাঠানোর বিকল্প তৈরি হবে। এমন পদক্ষেপ সংঘাতকে নাটকীয়ভাবে তীব্র করতে পারে। যুদ্ধ ইতিমধ্যে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানাননি, সৈন্যদের মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোথায় পাঠানো হবে বা কবে তারা সেখানে পৌঁছাবে। এসব সৈন্য বর্তমানে নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে প্রশ্ন হোয়াইট হাউসে পাঠিয়েছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, সেনা মোতায়েন-সংক্রান্ত সব ঘোষণা পেন্টাগন থেকেই আসবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সব সামরিক বিকল্পই খোলা আছে।’ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এক সূত্রের মতে, পেন্টাগন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে ২০ মার্চ রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস বক্সার নামের একটি উভচর আক্রমণ জাহাজে হাজার হাজার মেরিন ও নাবিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট এবং সহগামী যুদ্ধজাহাজ।

অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর আগে থেকেই ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। নতুন করে সেনা পাঠানোর এই খবর এমন এক সময় এল, যার এক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে।

কিন্তু ট্রাম্প সোমবার ট্রুথ সোশালে এ কথা বলার পর ইরান দাবি করে, কোনো আলোচনা হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ৯ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ পর্যন্ত যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ২৯০ জন আহত হয়েছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় আছে। ২৫৫ জন আবার দায়িত্বে ফিরে গেছে।

এর আগে সূত্রগুলো জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করা। প্রয়োজনে ইরানের উপকূলে বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের খারগ দ্বীপে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও আলোচনা করেছে। ইরানের তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়।

সাধারণত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন আদেশ পাওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মোতায়েন হতে পারে। তারা প্যারাস্যুট হামলা পরিচালনায় বিশেষজ্ঞ। মার্কিন স্থলবাহিনী ব্যবহার করা হলে, এমনকি সীমিত মিশনের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ, ইরান অভিযানের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন কম। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গতকাল প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে ৩৫ শতাংশ আমেরিকান সমর্থন দিয়েছে। আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ। ৬১ শতাংশ হামলার বিরোধিতা করেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৯ শতাংশ।

কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ইরানে সেনা পাঠাবেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের মার-এ-লাগোর আসনেই হারল রিপাবলিকানরা

সৌদি আরবে রুদ্ধদ্বার বৈঠক নরম করল ট্রাম্পের সুর, ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

ট্রাম্পকে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত ‘বড় উপহার’ দিয়েছে ইরান

এপস্টেইনের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন বিলিয়নিয়ার

ট্রাম্পের ঘোষণার আগমুহূর্তে শেয়ারবাজারে ১০ কোটি ডলার মুনাফা রহস্যময় ব্যক্তির

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে স্পিকার গালিবাফকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

আলোচনা এগোচ্ছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনা করতে চান ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক পাকিস্তানে

গ্রিসের ক্রিট নৌঘাঁটিতে ফিরল মার্কিন রণতরি জেরাল্ড ফোর্ড