ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট। সংস্থাটির সাম্প্রতিক ভূস্থানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে অন্তত ২০টি ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনাটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বেলিংক্যাট ইরাকি কুর্দিস্তানের পিরামাগরুন পর্বতমালা এবং কিরকুক শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে ধারণকৃত একাধিক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে। ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, অন্তত ২০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত নিচু উচ্চতা দিয়ে ইরানি সীমান্তের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত ভূমধ্যসাগর থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। কারণ, বর্তমান অবস্থানে লোহিত সাগর থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে তা ক্ষেপণাস্ত্রের ১৬০০ কিলোমিটারের সর্বোচ্চ রেঞ্জকে ছাড়িয়ে যেত। ১ মার্চ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস থমাস হাডনার’ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যা এই অনুসন্ধানের সত্যতা নিশ্চিত করে।
এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি নতুন ধরন দেখা গেছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ‘ব্ল্যাক বডি’ বা গায়ে কালো রঙের প্রলেপ দেখা গেছে, যা রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য বিশেষ ‘স্টিলথ কোটিং’ বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের ফরোয়ার্ড সুয়েপ্ট উইং বা ডানা সামনের দিকে বাঁকানো, যা রাডার সিগনেচার আরও কমিয়ে দেয়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলাপকালে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরাকি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড প্রতিবেশী কোনো দেশের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিসি গ্রুপের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্রায়ান ফিনুকেন বেলিংক্যাটকে জানিয়েছেন, ইরাক বা সিরিয়ার সম্মতি ছাড়া তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে তৃতীয় কোনো দেশে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বেলিংক্যাট তেহরানের ‘কুরখানে বাস টার্মিনাল’-এর ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার দৃশ্য জিওলোকেট করেছে। এ ছাড়া ইরানের মানিব এলাকায় একটি স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শিশুসহ ১৭৫ জনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। সিরিয়ার কাফর জিতা এলাকায় একটি অবিস্ফোরিত মার্কিন ওয়ারহেডও পাওয়া গেছে, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সেখানে আছড়ে পড়েছিল।