হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের স্কুলে হামলাকে ‘হাড়হিম করা বীভৎসতা’ বললেন ফলকার তুর্ক, বিচার দাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও তারা এর দায় স্বীকার করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘শাজারাহ তাইয়েবাহ’ এলিমেন্টারি স্কুলে চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় ১৭৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ছিল শিশু ও তাদের শিক্ষক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে এক আবেগঘন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক মিনাব ট্র্যাজেডিকে ‘ভিসারাল হরর’ বা হাড়হিম করা এক বীভৎসতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জেনেভায় কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ধরনের বোমাবর্ষণ অমানবিক। যারা এই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, এর সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত করার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। আমি দাবি জানাই, এই প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শেষ করা হয় এবং এর ফলাফল জনসমক্ষে আনা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।’

ইরান, চীন ও কিউবার অনুরোধে আয়োজিত জাতিসংঘের এই জরুরি অধিবেশনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো ছিল:

১. যেদিন এই হামলা চালানো হয় (২৮ ফেব্রুয়ারি), সেদিনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আলোচনার টেবিল ভেস্তে দিয়ে গত নয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’

২. তিনি এই সংঘাতকে ‘দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী গুন্ডা শাসনব্যবস্থার’ চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ ও নৃশংস যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

৩. মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো এই হামলাকে তিনি ‘ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেন, যেখানে শিশুদের কোনো অপরাধ ছাড়াই প্রাণ দিতে হয়েছে।

মিনাব হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ বিচার দাবি করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানে শোকের মাতম চলছে। জাতিসংঘে ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা তথ্যে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সামরিক হামলা ছিল না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

বিশ্লেষকদের মতে, মিনাব ট্র্যাজেডি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ইরানের প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসেফ পেজেশকিয়ানের ডায়েরিতে উঠে এল যুদ্ধের চিত্র

দুই চীনা জাহাজ আটকে দিল ইরান

যত্রতত্র পড়ে থাকা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ এখন ইসরায়েলের নতুন বিপদ

ইরান যুদ্ধের মধ্যে বেড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন

‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব কটি ঘাঁটিই ধ্বংস করেছে ইরান’

ইসরায়েলের পরমাণু বোমার তথ্য ফাঁসকারী আরব ইহুদি ভানুনুর ভাগ্যে কী ঘটেছিল

মার্কিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যের কোনো হোটেল আশ্রয় দিলে সেখানেই হামলা করবে ইরান

ইরানে সামরিক চিপ তৈরির সরঞ্জাম পাঠিয়েছে চীন, শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পক্ষে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে

নেতানিয়াহুর অধীনে বর্ণবাদী হয়ে উঠেছে ইসরায়েল, ভেঙে দিচ্ছে রাষ্ট্রকাঠামো: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী