যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সঙ্গে ১৯৪১ সালে জাপানের পার্ল হারবার আক্রমণের তুলনা করেছেন। ওয়াশিংটনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে এক জাপানি সাংবাদিক যখন জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি যুদ্ধ পরিকল্পনার বিষয়ে মিত্রদের আগে থেকে জানাননি? ট্রাম্প জবাব দেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম আকস্মিকতা। আকস্মিকতা সম্পর্কে জাপানের চেয়ে ভালো কে জানে?’ এ সময় তিনি তাকাইচির দিকে ফিরে বলেন, ‘আপনারা আমাকে পার্ল হারবার আক্রমণের আগে কেন বলেননি?’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আকস্মিকতায় বিশ্বাস করেন, আমার মনে হয় আমাদের চেয়েও বেশি।’
এ সময় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের পাশেই বসে থাকা তাকাইচির চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যায় এবং তিনি চেয়ারে অস্বস্তিকরভাবে নড়েচড়ে বসেন। ট্রাম্প তখন সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে টেনে আনে।
উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াইয়ের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে জাপানের হামলায় ২ হাজার ৩৯০ জন আমেরিকান নিহত হন। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ওই দিনটিকে আখ্যা দেন এমন ‘এক তারিখ’ হিসেবে, যা ‘চিরকাল কলঙ্ক হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।’
এরপর, ১৯৪৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে পরাজিত করে। এর কয়েক দিন আগে হিরোশিমা–নাগাসাকিতে মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলায় লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হন। ট্রাম্পের মন্তব্য শুক্রবার টোকিওর রাস্তায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে কাজ করা ৩৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী ইউতা নাকামুরা রয়টার্সকে বলেন, তাকাইচি ‘খুব কঠিন পরিস্থিতিতে’ পড়েছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে অসন্তুষ্ট না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তাকাইচির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেবল রসিকতা হিসেবেই নিয়েছি। কিন্তু তার পদমর্যাদার কারণে যদি তিনি বেশি হাসতেন, তাহলে সমালোচনার মুখে পড়তেন। তাই তার জন্য প্রতিক্রিয়া দেখানোটা নিশ্চয়ই খুব কঠিন ছিল।’
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী টোকিও ওয়াশিনো বলেন, ‘জাপান ইতিহাসে এমন কাজ করেছে, সেই প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড যখন এটিকে উদাহরণ হিসেবে তুললেন, তখন একজন জাপানি নাগরিক হিসেবে আমার একটু অস্বস্তি লাগে।’