হোম > অর্থনীতি > শেয়ারবাজার

পুঁজিবাজার: বিদেশি-প্রবাসীর উপস্থিতি কমেছে

মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা

পুঁজিবাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে। গত প্রায় দেড় বছরে এসব বিনিয়োগকারীর প্রায় চার হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একই সময়ে বাজারে তাদের নিট বা প্রকৃত বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ১৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে অংশগ্রহণের কমার এই প্রবণতা বাজারে আস্থার প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে আস্থা সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে কিছু বিনিয়োগকারী তাদের হিসাব বন্ধ করেছেন। তবু নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত এবং কিছু ইতিবাচক বাজার প্রবণতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ সীমিত হলেও অব্যাহত রয়েছে।

সিডিবিএল এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ৪৭ হাজার ৮১টি। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ১০১টিতে। অর্থাৎ এই দেড় বছরে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের ৩ হাজার ৯৮০টি বিও হিসাব কমেছে। তবে একই সময়ে মোট বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব কিছুটা বেড়েছে; ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মোট বিও হিসাব ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৬টি, যা ১৭ ফেব্রুয়ারি বেড়ে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯টিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর হিসাব কমে যাওয়া বাজারের জন্য সতর্ক সংকেত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, আগের সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকায় বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানি বাজারে আসেনি। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও সীমিত ছিল। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায়, এখন ভালো কোম্পানির আইপিও আনা হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে পারে।

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত আঠারো মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে ওঠানামা ছিল। এর মধ্যে মাত্র ৯ মাসে তাদের নিট ক্রয় বা বিনিয়োগ বেড়েছে। ওই মাসগুলো হলো—২০২৪ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর; ২০২৫ সালের জানুয়ারি, মে, জুন ও জুলাই; এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের নিট বিনিয়োগ এসেছে ৮৭৫ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৫২ টাকা।

ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসানুর রহমান বলেন, বছরের শুরুতে সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়ে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় এবারও কিছু বিনিয়োগ এসেছে। তবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা—বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে রেখেছে।

অন্যদিকে বাকি ৯ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ক্রয়ের চেয়ে বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। ফলে ওই সময় বাজার থেকে তারা ৬৮৭ কোটি ৬১ লাখ ১৯ হাজার ২৬৬ টাকা তুলে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেড় বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৮৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এই সময়ে শেয়ার কেনাবেচা মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৫ সালে বাজারে আস্থার ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং নীতিগত কিছু অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি বিক্রি করেছেন। তবে ২০২৬ সালের শুরুতে কিছু বড় কোম্পানির আর্থিক ফলাফল ভালো আসায় আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে। এখন বাজারে আস্থা বাড়ানো জরুরি। এজন্য ভালো কোম্পানির আইপিও আনা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

সপ্তাহের শুরুতে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন

নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে রেকর্ড লেনদেন

পুঁজিবাজার: আবুল খায়ের হিরুর বার্তার পর বড় উত্থান

বিনিয়োগকারীদের ১০১ কোটি শেয়ার শূন্য হচ্ছে

গোল্ডেন হারভেস্টের দুই পরিচালকের ১ কোটি শেয়ার হস্তান্তর বাতিল

পুঁজিবাজারে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি: সরকারি চুক্তির অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বিনিয়োগ ঝুঁকি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে হাজার কোটি টাকা ঋণ পেল আইসিবি, শেয়ার কেনা শুরু

কমোডিটি মার্কেটের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার

বাজার মূলধন কমল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা

এসিআইয়ের ৫ লাখ শেয়ার কিনবেন চেয়ারম্যান আনিস-উদ-দৌলা