হোম > অর্থনীতি

শিল্পঋণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা 

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রধান চালিকাশক্তি হলো উৎপাদনমুখী শিল্প খাত। এখন সেই খাতই পড়েছে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপে। কারণ শিল্পঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উৎপাদনমুখী শিল্প খাতকে ব্যাংকিং ব্যবস্থা যে ঋণ সরবরাহ করছে, তা আর প্রত্যাশিত হারে ফেরত আসছে না। অথচ ব্যাংকিং খাতের বিতরণ করা ঋণের সিংহভাগই কেন্দ্রীভূত হয়েছে এই খাতে, যা শুধু শিল্প খাতকেই নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আর এই প্রবণতা সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা তৈরি করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে, যা মোট ঋণের ৪৩ শতাংশ। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বিপুল ঋণের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশই ইতিমধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থের হিসাবে যার পরিমাণ ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে এই চিত্র আরও খারাপ হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ শতাংশ, যা শিল্প খাতে আর্থিক শৃঙ্খলার অবনতির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

তবে স্বল্পমেয়াদি হিসাবে কিছুটা কমতির ইঙ্গিতও রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। তিন মাসের ব্যবধানে ডিসেম্বর শেষে তা নেমে এসেছে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশে। অর্থাৎ ত্রৈমাসিক হিসাবে প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে খেলাপি ঋণ। তবু সামগ্রিক প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক, কারণ মৌলিক সমস্যাগুলো রয়ে গেছে আগের মতোই।

শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, এই অবস্থার পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ। বৈশ্বিক মহামারির সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তাদের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে এবং খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অর্থনৈতিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এখনো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, সুদহার বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদি ঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে, যার প্রভাব পড়ছে ঋণ পরিশোধে। অনেক উদ্যোক্তা নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো দায় পরিশোধ করছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। তবে সামনের দিনে ব্যবসা পরিস্থিতি উন্নত হলে খেলাপি ঋণ কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের ভেতরের দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঋণ বিতরণে নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না এবং বড় ও প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীগুলোই অধিকাংশ ঋণ পেয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঋণ আদায়ে কঠোরতা দেখা যায় না। এমনকি নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচারের ঘটনাও রয়েছে, যা আর ফেরত আসে না।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, শিল্প খাতে খেলাপি ঋণ এভাবে বাড়তে থাকলে ব্যাংকিং খাতের তারল্যসংকট আরও গভীর হতে পারে। এতে নতুন ঋণ বিতরণ কমে যাবে, শিল্পে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি সামাল দিতে সুদের হার বাড়াতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।

জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে স্থগিত করল বিইআরসি

জেট ফুয়েলের দাম একলাফে বাড়ল ৮২ টাকা

ভূরাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণভোমরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ

জেট ফুয়েলের দাম একলাফে বাড়ছে ৬০%, বাড়বে বিমানভাড়াও

ফেব্রুয়ারির বেতন-বোনাস পরিশোধ হয়েছে শতভাগ পোশাক কারখানায়, সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ

ঈদের ছুটিতেও ব্যাংক খোলা যেসব এলাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার: পোশাকের দাম কমেছে ২.৬%

ঈদে ভোগাবে না বিদ্যুৎ, এপ্রিল নিয়ে আশঙ্কা

ঈদবাজারে বেড়েছে টাকার প্রবাহ

ওয়ালটন পণ্য কিনে উপহার পেলেন আরও ২৭ ক্রেতা