হোম > প্রযুক্তি

অ্যানথ্রোপিককে ঠেকাতে কোডিংয়ে ঝুঁকছে ওপেনএআই

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারে। ছবি: সংগৃহীত

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। একযোগে অনেক প্রজেক্টে কাজ করার নীতি থেকে সরে এসে কোম্পানিটি এখন কোডিং ও ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। মূলত প্রতিপক্ষ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠান।

ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন সিইও ফিদজি সিমো গত সপ্তাহে এক অভ্যন্তরীণ কর্মিসভায় এই নতুন কৌশলের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ও চিফ রিসার্চ অফিসার মার্ক চেন বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় প্রজেক্টগুলো শনাক্ত করছেন, যেগুলোতে বিনিয়োগ ও জনবল কমানো হবে।

সিমো কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘পার্শ্ব প্রজেক্ট বা ‘‘সাইড কুয়েস্ট’’-এর পেছনে সময় নষ্ট করে আমরা এই বিশেষ মুহূর্ত হারাতে পারি না। আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে প্রোডাক্টিভিটি, বিশেষ করে ব্যবসায়িক খাতে প্রোডাক্টিভিটি নিশ্চিত করা।’

সিলিকন ভ্যালিতে বর্তমানে অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লদ কোড’ ও ‘কোওয়ার্ক’ সেবাগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ক্লদের একচ্ছত্র আধিপত্য ওপেনএআইয়ের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কোম্পানিতে জরুরি অবস্থা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সিমো।

উল্লেখ্য, গত বছর ওপেনএআই ভিডিও জেনারেটর ‘সোরা’, ওয়েব ব্রাউজার ‘অ্যাটলাস’ এবং নতুন হার্ডওয়্যার ডিভাইসের মতো একঝাঁক পণ্য বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই বহুমুখী প্রচারণার ফলে কোম্পানির মূল লক্ষ্য কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল। এমনকি ভিডিও অ্যাপ ‘সোরা’ শুরুতে জনপ্রিয় হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক উভয়েই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই জনসমক্ষে আসার প্রস্তুতিই মূলত প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যকার লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

ওপেনএআই এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। নিজস্ব হার্ডওয়্যার ডিভাইস ব্যবহারকারীর প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া গত মাসে অবমুক্ত হওয়া ‘কোডেক্স’ অ্যাপের নতুন সংস্করণ এবং পেশাদার কাজের উপযোগী মডেল ‘জিপিট ৫.৪’ দিয়ে হারানো বাজার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি। ফিদজি সিমো জানিয়েছেন, বছরের শুরু থেকে কোডেক্সের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার গুণ বেড়ে বর্তমানে ২০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

ওপেনএআইয়ের এই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, কোম্পানিটি এখন স্রেফ চমকপ্রদ পণ্য তৈরির বদলে ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব ও পেশাদার কার্যকারিতার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

এআইয়ের দাপট: হুমকির মুখে ভারতের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আউটসোর্সিং শিল্প

এআই সুযোগের দরজা, না বিভেদের দেয়াল

এআই সহযোগী রোবট ফোন

গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দিয়েছে নাসা

ঈদে ঘোরাঘুরির ছবি ও ভিডিও এডিট করুন সহজে

ঈদের আগে গুগল ড্রাইভ খালি করে নিন

কম্পিউটার গেম, যুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডা: ইসরায়েলে ইরানের আক্রমণ নিয়ে গেম বানানো ইস্যুতে বিতর্ক

২০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা মেটার

৬০% ক্ষেত্রে ভুল তথ্য, তবু কেনাকাটায় এআইয়ের ফাঁদে মানুষ

১৮ বছর পর অ্যাডোবির প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়ছেন শান্তনু নারায়ণ