অমোঘ টান আর উপভোগের নির্মল আনন্দ আছে বলেই ফুটবল বিশ্বকাপ উপেক্ষা করা যায় না। আর যায় না বলেই বরাবরের মতো এবারও বিশ্বকাপের টিকিটের গগনচুম্বী চাহিদা। কিন্তু শুরুর আগেই বিশ্বকাপের অমলিন আনন্দে উদ্বেগ ভর করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে দেখা গেছে, আগ্রহ থাকলে আসন্ন বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন কি না, তা নিয়ে দোটানায় আছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলভক্তরা। ভ্রমণকালীন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, ভিসা সমসা, টিকিটের চড়া দাম এবং মার্কিন সরকারের নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক দুই মাস আগে প্রকাশিত এই জরিপে ১০টি দেশের ৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী মত দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ‘নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, ভিসা প্রসেসিংয়ে বিলম্ব এবং মার্কিন নীতির পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে, যা এই আয়োজনের মূল সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
যদিও ফিফার দাবি, বিভিন্ন অঞ্চলের ২০০টির বেশি দেশের মানুষের টিকিট কেনার হার দেখে তারা আশাবাদী। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে বিমান কিংবা হোটেল বুকিংয়ের তেমন কোনো জোরালো তথ্য এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। উল্টো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, তিন আয়োজক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হাজারো হোটেল বুকিং বাতিল করা হয়েছে এবং প্রত্যাশিত চাহিদাও এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি চারজনের একজন ভিসা ও সীমান্তপ্রক্রিয়াকে ভ্রমণ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা তুলনামূলক বেশি সময় অবস্থান করবেন এবং অন্যান্য পর্যটকের তুলনায় গড়ে ৬৭ শতাংশ বেশি ব্যয় করবেন; যা জনপ্রতি প্রায় ৫ হাজার ৪৮ ডলার।
টিকিটের ক্ষেত্রে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ (চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তন) পদ্ধতির কারণে ভক্তরা ক্ষুব্ধ। এর পাশাপাশি যাতায়াত খরচও দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। ম্যাসাচুসেটস বে ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বোস্টন স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য ৮০ ডলারের সীমিত রাউন্ড-ট্রিপ টিকিট ঘোষণা করেছে। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সমর্থক গোষ্ঠীগুলো এই উচ্চমূল্য নিয়ে এরই মধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে বাড়তি খরচ, ভিসা জটিলতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে না পারলে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফল পুরোপুরি অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।