ইসরায়েলকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করেছে ফিফা। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা।
ফিফা গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) দেড় লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ফিফার ৭৪তম অধিবেশনে পিএফএর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় ফিফা কাউন্সিল। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। ফিফা আচরণবিধির অনুচ্ছেদ ১৫ অনুসারে বৈষম্য ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড এবং ১৩ অনুযায়ী আক্রমণাত্মক আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
জরিমানার পাশাপাশি ইসরায়েলকে আচরণের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু কাজ আইএফএকে করার নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। সেগুলো হলো
১. আইএফএকে তাদের পরবর্তী তিনটি এ-লেভেলের ফিফা প্রতিযোগিতার হোম ম্যাচে একটি ব্যানার তৈরি করতে হবে। সেখানে লেখা থাকবে ‘ফুটবল পুরো বিশ্বকে একত্র করে। এখানে বৈষম্যের ঠাঁই নেই’। ব্যানারটি বড় হতে হবে, যাতে সবার দৃষ্টিগোচর হয় আর এটার সঙ্গে আইএফএর লোগো থাকতে হবে। ব্যানারের আকার, নকশা এবং স্টেডিয়ামে এর অবস্থান প্রতিটি ম্যাচের অন্তত ১৫ দিন আগে ফিফার অনুমোদনের জন্য জমা দিতে হবে।
২. সিদ্ধান্তের নোটিশের ৬০ দিনের মধ্যে আইএফএকে জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ দিতে হবে একটি বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। বৈষম্য প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যা ফিফার আচরণবিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ৭ নম্বর ধারার সঙ্গে মেলে। এই পরিকল্পনাটির অনুমোদন ফিফার কাছ থেকে নিতে হবে। সংস্কার, প্রটোকল, পর্যবেক্ষণ এবং স্টেডিয়াম ও অফিশিয়াল চ্যানেলে পুরো একটি মৌসুমে শিক্ষামূলক প্রচারণা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে। বাকি জরিমানার অর্থ সিদ্ধান্তের নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির দায়িত্ব ফিফার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা প্রয়োগে সীমাবদ্ধ থাকলেও ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, সে ব্যাপারে তারা ওয়াকিবহাল। শান্তি, সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকা উচিত বলে ফিফা মনে করে। বিশেষত সংঘাত ও বিভাজনের সময়ে ফিফা ঐক্য, মানবিক মর্যাদা, সাম্য এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার দায়িত্ব বহন করে।