ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) প্রাধান্য দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দিয়েছিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)—সম্প্রতি এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন কেভিন পিটারসেন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের এমন মন্তব্যের পর ইসিবিকে ধুয়ে দিলেন আইপিএলের সাবেক কমিশনার ললিত মোদি।
পিটারসেনকে সমর্থন করে ইসিবিকে ‘অহংকারী সংস্থা’ বলে উল্লেখ করেছেন মোদি। তাঁর অভিযোগ ইসিবি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয় না। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হান্ড্রেডকে ইসিবির জন্য সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় মোদি লিখেছেন, ‘পিটারসেনের সবচেয়ে বড় ত্যাগ—আর আইপিএলের জন্য বড় অর্জন। তাকে আমি কখনো ভুলব না। আইপিএলের সততার জন্য সে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসিবি সব সময়ের মতোই বোকামি করেছে। নিজেদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত একটি সংস্থা, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কোনো গুরুত্বই দেয় না। ইতিহাসই তার প্রমাণ—প্রথমে স্ট্যানফোর্ড কেলেঙ্কারি, এরপর অপেক্ষায় থাকা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ‘দ্য হান্ড্রেড’। যারা এতে বিনিয়োগ করেছে, তাদের জন্য দুঃখ লাগে।’
২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ইংলিশ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ইসিবি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সীমিত সময়ের জন্য খেলোয়াড়দের আইপিএলে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সময় পিটারসেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলেন। তবে আইপিএলকে প্রাধান্য দেওয়ায় বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১০৪টি টেস্ট খেলে ৮,১৮১ রান করেছেন পিটারসেন; ২৩টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৩৫টি ফিফটি করেছেন। তাঁর দাবি, ক্যারিয়ার স্বাভাবিকভাবে এগোলে আরও ৫০-৬০টি টেস্ট খেলতে পারতেন তিনি এবং ১২-১৩ হাজার রান করা সম্ভব ছিল।
রণবীর আল্লাহ বাদিয়াকে পিটারসেনকে বলেন, ‘আমি ত্যাগ স্বীকার করেছিলাম; আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে। সে সময়কার প্রশাসনের (ইসিবির কর্তারা) সবাই আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার সময় আমার বয়স হয়েছিল ৩৩ বছর। খেলেছি ১০৪টি টেস্ট। অথচ আমার ১৫০-১৬০টি টেস্ট খেলা উচিত ছিল। নামের পাশে ১২-১৩ হাজার রান থাকা উচিত ছিল। আমার মনে হয়, এটা আমার এটা প্রাপ্য ছিল।’