হোম > খেলা > ক্রিকেট

কলকাতার জয় ছিনিয়ে নেওয়া কে এই মুকুল চৌধুরী

ক্রীড়া ডেস্ক    

কলকাতার বিপক্ষে ২৭ বলে ৫৪ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুকুল চৌধুরী। ছবি: ক্রিকইনফো

দৌড়ে এক রান নিতেই উৎসব শুরু লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসের দর্শকদের কাঁদিয়ে মুকুল চৌধুরী শূন্যে মুষ্টিবদ্ধ উদযাপন করেছেন। এরপর সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে যে মুকুল লক্ষ্ণৌকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়েছেন, তাঁকে কাঁধে তুলে শূন্যে উদযাপনে ব্যস্ত সতীর্থরা।

কলকাতার বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নেওয়া মুকুল এবারই প্রথমবার খেলছেন আইপিএলে। নিলাম থেকে তাঁকে ২ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে নেয় লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পেশাদার ক্রিকেটেও খুব একটা নিয়মিত নন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫, টি-টোয়েন্টিতে ১০ ম্যাচ—সব মিলিয়ে ১৯ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গতকাল ২৭ বলে ৫৪ রানের যে বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন, তার মধ্যে ৫০ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। ৭ ছক্কা ও ২ চার মেরেছেন তিনি।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রাজস্থানের জার্সিতে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুকুলের। সাদা পোশাকে চার ম্যাচে করেছেন ১০৩ রান। যেখানে সর্বোচ্চ স্কোর ৪৫। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫ ম্যাচ মিলিয়ে ১০০ রানও করতে পারেননি (সাদা বলের এই সংস্করণে তাঁর রান ৭১)। তবে সীমিত ওভারের আরেক সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতে তিনি অন্য রকম। ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ১০ টি-টোয়েন্টিতে ৪৬.৬৭ গড় ও ১৬৪.৭০ স্ট্রাইকরেটে করেন ২৮০ রান। করেছেন তিন ফিফটি।

প্রথমে মিডিয়াম পেসার হলেও পরে উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলেন। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তিনি নজর কাড়েন। ২০২৫-২৬ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে তিনি ৫ ইনিংসে করেন ১৭৩ রান। তাঁর স্ট্রাইকরেট ছিল ১৯৮.৮৫। এই বিধ্বংসী ব্যাটিংই তাঁকে আইপিএলে দল পেতে সহায়তা করে। রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে কাড়াকাড়িতে তাঁকে নেয় মুকুল।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে গতকাল ২৭ বলে ৫৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুকুল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল তখনই, যখন আমার বাবা বিয়েও করেননি। তাঁর স্বপ্ন ছিল, তাঁর ছেলে যেন ক্রিকেট খেলে। আমি বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে শুরু করি। কিন্তু সিকিমে ভালো কোনো একাডেমি ছিল না। আমি দিল্লি এবং গুরগাঁওয়ে ম্যাচ খেলতাম। সেটাই আমাকে সাহায্য করেছে। যখন অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে উত্তর প্রদেশের বিরুদ্ধে খেলছিলাম, সেটা ছিল লো-স্কোরিং। তবে আমার সেই স্কোর দেখে অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন কিছু করতে পারব। সেটা ছিল মাত্র আমার দ্বিতীয় ম্যাচ।’

কলকাতার দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৮ ওভার শেষে লক্ষ্ণৌর স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৫২ রান। ২ ওভারে ৩০ রানের সমীকরণ হলেও মুকুল ঘাবড়ে যাননি। ১৯তম ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে দুই ছক্কা ও এক চার মেরে একাই ১৬ রান নেন মুকুল। আর শেষ দুই বলে যখন ৭ রানের সমীকরণ, তখন ডিপ এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে স্কোর সমতায় আনেন। শেষ বলে কলকাতা উইকেরটক্ষক অংক্রীশ রঘুবংশী মিস করায় সেই সুযোগে এক রান নিয়ে ম্যাচ জেতান মুকুল।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মুকুল বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন। এখানে চাপ ছিল। একই সঙ্গে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগও ছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করা ছিল আমার লক্ষ্য। প্রথম ছক্কাটা আমার ভালো লেগেছে। কারণ, আগের দুই ম্যাচে একটা ছক্কাও মারিনি। প্রথমটা তাই ছিল বিশেষ। আমার মনে ছিল যে চার বলের মধ্যে একটা বাজে বল আসবেই। সেটার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমি ছক্কা মারতে পছন্দ করি।’

এবারের আইপিএলে নিজের প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে মুকুল করেন ১৬ রান। তিনি গতকাল চাপ সামলে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে নজর কেড়েছেন। পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। তাঁর দল লক্ষ্ণৌ ১০ দলের মধ্যে পাঁচ নম্বরে রয়েছে। ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে দলটির পয়েন্ট চার।

বাংলাদেশ সিরিজ শেষ নিউজিল্যান্ডের এই ক্রিকেটারের

পাকিস্তানে গেলেই বারুদ হয়ে যান রানা

ডটের পর ডট দিয়ে টি-টোয়েন্টির এলিট ক্লাবে মোস্তাফিজ

আইপিএলে খেলতেই পারলেন না হাসারাঙ্গা

স্থবির ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চালুর ঘোষণা

৪ রানে ৯ উইকেট, ব্রাজিলের মেয়ের বিশ্ব রেকর্ড

বিদ্যুৎ বাঁচাতে বদলে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি

ভারতে একটা সিরিজে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারই বদলে দেয় শান্তকে

বাজে রেকর্ডে রিশাদ-শরীফুলকেও ছাড়িয়ে গেলেন রানা

নিয়মই নয়, চেয়ারই যেন শেষ কথা