খবরটি কদিন আগের। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের আপন বড় ভাই অতি অল্প সময়ে ২ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। পেশায় তিনি একজন গাড়িচালক। কায়ক্লেশে চলত তাঁর জীবন। জীবনে কখনো আয়কর দেননি তিনি, আয়কর দেওয়ার মতো সংগতি ছিল না বোধ হয়। কিন্তু হঠাৎ তাঁর আর্থিক যে পরিবর্তন এসেছে, তা একমাত্র আলাদিনের চেরাগ ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নামে অভিযোগ আসার পর তিনি নিজেরটিসহ পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব দাখিল করেছেন। তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে যে টাকা রয়েছে, যে টাকার লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এতটাই হাস্যকর যে এই হিসাবের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। পয়লা মে ছুটির দিনে প্রাইম ব্যাংকে উপদেষ্টার স্ত্রীর নামে হিসাব খোলা হয়েছে, সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ২ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, এ কথা বিশ্বাস করাতে হলে পাঠকের মগজ ধোলাই করা লাগবে। এ-ও এক হীরক রাজার দেশের কারবার বলে মনে হয়।
আমরা সাবেক উপদেষ্টার বিষয়ে এখানে আর আলাপ না করে তাঁর সাবেক এপিএসের সদ্য আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ভাইকে নিয়ে কথা বলি। মাত্র আট মাস! মাত্র আট মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা কীভাবে একজন গাড়িচালক আয় করতে পারেন, সে ধাঁধার উত্তর কে দেবে? সরলভাবে দেখলে বোঝা যায়, ভাই যখন উপদেষ্টার এপিএস, তখনই তাঁর এই আর্থিক উত্থান। যাঁর এপিএসের পরিবারে এতটা রমরমা, সেই উপদেষ্টার স্ত্রী ব্যাংক থেকে মাত্র ২ টাকা তোলেন, এ রকম গাঁজাখুরি গল্প কেনই-বা বানাতে হলো, কাকেই-বা গেলানোর জন্য তৈরি করা হলো, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা কার আছে?
আইনের লোকেরা এই ধাঁধাকে বাস্তবজগতে নিয়ে আসুন। এই ধাঁধার পথ ধরে বিটকয়েন, হুন্ডিসহ যাবতীয় আলাপে মশগুল হন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। আমরা বরং অন্যভাবে বিষয়টি খোলাসা করার চেষ্টা করে দেখি। হঠাৎ কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা যখন এসে পড়ে এপিএসের গাড়িচালক ভাইয়ের হাতে, তখন প্রশ্ন ওঠে, সেই টাকার উৎস কী? মোয়াজ্জেম হোসেন যখন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এপিএস হলেন, তখন থেকে এই পরিবারে উড়ে উড়ে এল টাকা। এই টাকা কি শুধু এপিএস একাই করায়ত্ত করেছিলেন? ঊর্ধ্বতন মহলকে আড়ালে রেখেই কি তিনি এমন কোনো প্যাঁচ কষেছেন, যেন তাঁর পরিবারের খাজাঞ্জিখানা ফুলেফেঁপে ওঠে? কথাটা বিশ্বাস করা কঠিন। এপিএস মহাশয় কাউকে খুশি না করে এই অপকর্ম করতে পারতেন বলে মনে হয় না।
আমাদের দুর্ভাগ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ কামানো আমাদের রাজনীতির ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপদেষ্টাদের এপিএস কিংবা অন্য কোনো কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনও দেখিয়ে দিতে পারে, উপদেষ্টার চলন-বলন। গাঁজাখুরি গল্পগুলো না শুনে আইনকে নিজের পথে চলতে দেওয়া হোক।