হোম > জাতীয়

শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস: জীবিকার চাপে বই ছেড়ে কাজে ঢুকছে শিশুরা

সোহানুর রহমান, জবি

জীবিকার তাগিদে শিশুরাও যোগ দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। অতিরিক্ত সময় পরিশ্রম করে পাচ্ছে সামান্য পারিশ্রমিক। গতকাল রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পুরান ঢাকার বংশালের একটি মোটর ওয়ার্কশপে ঢুকতেই শোনা যায় লোহা কাটার শব্দ। চারদিকে ছড়িয়ে আছে গ্রিজ, ধোঁয়া আর পোড়া তেলের গন্ধ। বড় বড় যন্ত্রপাতির মধ্যে ব্যস্ত কয়েক শিশু। সবচেয়ে ছোট্ট শিশুটির বয়স বড়জোর ১২ বছর। সে শিখছে গাড়ির যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ।

পুরান ঢাকা শুধু ইতিহাস-ঐতিহ্যের জন্যই বিখ্যাত নয়, হাজারো শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার কেন্দ্রও। পুরোনো ব্যবসা, কারুশিল্প, ধাতব কাজ, বই বাঁধাই, মোটর গ্যারেজ কিংবা খাবারের দোকান—সবকিছু মিলিয়ে অনেকটা ভিন্ন রাজধানীর এই অংশ। কিন্তু এই ঐতিহ্যের মধ্যেই নীরবে বেড়ে উঠছে শ্রমজীবী শিশুরা।

সূত্রাপুর, বংশাল, বাংলাবাজার, ইসলামপুর, চকবাজার, ধোলাইখাল, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর চরে প্রতিদিন অসংখ্য শিশুকে কাজ করতে দেখা যায়।

বংশালের একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করে ১৩ বছরের আরাফাত। গ্রামের বাড়ি ভোলায়। তার বাবা এলাকায় রিকশা চালান। সংসারে সদস্য বেশি, তাই দুই বছর আগে কাজের খোঁজে ঢাকায় আসে সে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যারেজে কাজ করলেও মাস শেষে পায় সামান্য টাকা। আরাফাত বলে, ‘প্রথমে শুধু যন্ত্রপাতি ধরতাম, এখন ইঞ্জিন খুলতেও পারি। কাজ শিখতেছি, পরে ভালো মিস্ত্রি হমু।’

কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় কাজ করানো যায় শিশুদের দিয়ে। কর্মক্ষেত্রে এসব শিশুকে ‘সহকারী’ বা ‘কাজ শিখছে’ বলে পরিচয় দেওয়া হয়। বাংলাবাজারের কাছাকাছি একটি দোকানে বাকরখানি কারখানায় কাজ করেন রহমত (৩০)। তাঁর সঙ্গে কাজ করছে দুই ভাগনে নিশান (১০) ও পারভেজ (১১)। পারভেজ বলে, ‘পড়ালেখা ভালো লাগে না। কাজ শিখে পরে এই ব্যবসা করব।’

কামরাঙ্গীরচরের জুতার কারখানায় কাজ করে মারুফ (১৫) ও আকাশ (১২)। দুজনেরই গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তৃতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকায় আসে মারুফ। অন্যদিকে আকাশ এখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। মাত্র ছয় মাসে সহকারী থেকে কারিগর হয়ে উঠেছে সে। আকাশ বলে, ‘শুরুতে সহকারী ছিলাম, এখন নিজেই কাজ করি।’

পুরান ঢাকার চকবাজারের একটি পিতলের কারখানায় দেখা মেলে ১২ বছরের রাহিমের (ছদ্মনাম)। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পিতলের পাত্র পলিশ করে সে। নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই ধোঁয়া আর ধুলার মধ্যে কাজ করতে হয় তাকে। রাহিম বলে, ‘শুরুতে শেখার জন্য আসছিলাম, এখন পুরো সময় কাজ করি। স্কুলে যাওয়ার সময় পাই না।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য ও পরিবারের আর্থিক সংকট শিশুশ্রমের প্রধান কারণ। অনেক শিশু সংসারের দায়ভার নিতে বাধ্য হয়ে কাজে নামছে। যদিও শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচে শিশুদের কাজ করানো নিষিদ্ধ, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই আইন মানা হচ্ছে না বলে মনে করছেন তাঁরা।

চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী বলেন, খুব কম মজুরিতে শিশুদের দিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে, যা আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারহানা জামান বলেন, শিশুশ্রমের প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও শিক্ষার ব্যয়। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠায়। এ ছাড়া কম মজুরিতে কাজ করানো যায় বলে অনেক নিয়োগকর্তারও শিশু শ্রমিক নিতে আগ্রহ থাকে।

গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া: তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ

গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল রানা-স্বপ্নার জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি: আইন মন্ত্রণালয়ের সভাপতি পার্থ, অর্থে মুশফিকুর রহমান

স্থায়ী পাবলিক পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন সরকারের বিবেচনায়: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

বিআরটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত শুনলেন প্রধানমন্ত্রী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

হাসিনার করা চুক্তিই খুলে দিতে পারে বেনজীরকে ফেরানোর পথ

আবু সাঈদ হত্যা মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: সংসদে ববি হাজ্জাজ

বিএনপি এমপির বক্তব্য নিয়ে সংসদে উত্তেজনা, এক্সপাঞ্জ