রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এসব কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি কীভাবে কাজ করবে সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে আজ সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিবেদনটি আরও গতিশীল হওয়ার জন্য, আরও প্র্যাকটিক্যাল হওয়ার জন্য ওই বাচ্চাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে একটি তদন্ত কমিটি হওয়া বাঞ্ছনীয়। ঈদের ছুটির কারণে এই তদন্ত কমিটি করা যায়নি। আজকেই তদন্ত কমিটি করা হবে, তিন দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। এ ক্ষেত্রে আইনগত বিষয়গুলো জানার জন্য বা কীভাবে বিষয়টিকে আইনানুগভাবে করা যায়, সেটির বিষয়ে জানতে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এখানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কী কী কার্যক্রম করছি, কীভাবে করছি তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করেছি। উনি আমাদেরকে আইনানুগ উপদেশ দিয়েছেন, ওনার পরামর্শ অনুযায়ী আমরা বাকি কাজগুলো করে যাব। তিন দিনের মধ্যে আমরা প্রতিবেদন পাব, তারপর আপনাদের বিস্তারিত জানাব।'
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রকৃতপক্ষে কারও দায় থাকলে, দায় নিরূপণ করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা নিয়ে সভায় কথা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, ৩ জুনের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে। কমিটিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী চিহ্নিত হলে, সে যেন আইনি ফাঁকফোকরের মধ্য দিয়ে পার না পায় সে জন্য আইনগত পরামর্শ দিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজ করবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইনগত সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আইনগত দিকগুলো মন্ত্রী ও কমিটির সামনে উল্লেখ করেছি। বিশ্বাস করি, প্রকৃতপক্ষে দায়ী-দোষী ব্যক্তি বিচারের মুখোমুখি হবেন। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে সেটিই প্রত্যাশা। প্রকৃত অপরাধীরা যেন পার না পায়, সে কারণেই আজ মন্ত্রণালয়ে আসা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালে বেকারি করতে পরিবেশ (অধিদপ্তর) থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছে। কীভাবে লাইসেন্স দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’