হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালির চাবিকাঠি ইরানের ৭ দ্বীপ, মার্কিন অভিযানের নতুন সমীকরণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

হরমুজ প্রণালি। ছবি: নাসা

মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন স্থল সৈন্য মোতায়েনের খবরের মাঝেই পারস্য উপসাগরের কৌশলগত দ্বীপগুলো নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী খারগ দ্বীপ দখলের চেয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাতটি ছোট দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

চীনের সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, আবু মুসা, বড় তুনব, ছোট তুনব, হেনগাম, কেশম, লারাক ও হরমুজ—এই সাত দ্বীপ নিয়ে ইরানের ‘আর্চ ডিফেন্স’ গঠিত। গবেষক এনায়েতউল্লাহ ইয়াজদানি এবং মা ইয়ানঝে ২০২২ সালে তাঁদের এক গবেষণাপত্রে জানান, এই দ্বীপগুলোকে একটি কাল্পনিক রেখা দিয়ে যুক্ত করলে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব পরিষ্কার বোঝা যায়।

ইরানি কর্মকর্তারা এই দ্বীপগুলোকে তেহরানের ‘স্থায়ী এবং অনিমজ্জনীয় বিমানবাহী রণতরি’ হিসেবে অভিহিত করেন। এগুলোর মধ্যে আবু মুসা, বড় তুনব ও ছোট তুনব দ্বীপ তিনটি পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের গভীরতা কম হওয়ায় বড় যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাংকারগুলো এই দ্বীপগুলোর পাশ দিয়েই যেতে বাধ্য। ফলে আইআরজিসির দ্রুতগামী বোট, মাইন লেয়ার বা ড্রোন এখান থেকে সহজে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

হাওয়াইভিত্তিক বিশ্লেষক কার্ল শুস্টার জানান, পারস্য উপসাগরের হৃৎপিণ্ডে মার্কিন মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট পাঠাতে হলে আগে এই দ্বীপগুলোর ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে হবে। বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার মার্কিন মেরিন এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ১ হাজার সৈন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দ্বীপগুলো দখল করতে আকাশ বা সমুদ্রপথ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে লারাক দ্বীপটি প্রবেশপথে থাকায় সেখানে থাকা ইরানি মিসাইল বা অ্যাটাক ক্রাফট (দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজ) যেকোনো জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে। সিএনএনের সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটন লারাক দ্বীপকে একটি ‘সংকটপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই দ্বীপগুলো নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক জটিলতাও রয়েছে। ১৯৭১ সাল থেকে এই দ্বীপগুলো ইরানের দখলে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। ভবিষ্যতে এসব দ্বীপ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিতে পারে। ফলে সামরিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বিশ্লেষক শুস্টার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই দ্বীপগুলো দখল করে পুনরায় ইরানের নতুন কোনো সরকারকে ফিরিয়ে দেয়, তবে আরব আমিরাত ক্ষুব্ধ হতে পারে। আবার আমিরাতকে ফিরিয়ে দিলে তা ইরানের নতুন শাসনের বৈধতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় একজোট ইউক্রেন-কাতার-আমিরাত

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১০ মার্কিন সেনা আহত

দুবাইয়ে ইউক্রেনীয় অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের গুদামে ইরানের হামলার দাবি

প্যারাস্যুটে ইরানে নামতে পারে ২ হাজার মার্কিন সেনা

ইরান যুদ্ধে জড়াল হুতিরা, বন্ধের মুখে বিশ্ববাণিজ্যের আরেকটি রুট

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই সাংবাদিক নিহত

ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘উন্নত ড্রোন’ এখন ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

দুবাইয়ে ‘লুকিয়ে থাকা’ ৫০০ মার্কিন সেনার ওপর হামলার দাবি ইরানের

হরমুজে বাণিজ্য রক্ষায় টাস্কফোর্স গঠন করবে জাতিসংঘ

যুদ্ধে হুতিদের যোগদান যে কারণে ইসরায়েলের মাথাব্যথার কারণ হবে