লেবাননের পক্ষ থেকে সরাসরি আলোচনার অনুরোধের পর বৈরুতের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু এই ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমি গতকালই মন্ত্রিসভাকে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরুর নির্দেশ দিয়েছি। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন।’
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের বিষয়ে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে নেতানিয়াহুর বিবৃতির এক ঘণ্টা আগে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লেবানন পরিস্থিতির একমাত্র সমাধান হলো ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি। এরপর সরাসরি আলোচনা শুরু করা।’ তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে তিনি একটি কূটনৈতিক পথে কাজ করছেন যা আন্তর্জাতিক মহলে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করার পর ইসরায়েল লেবাননে নতুন করে অভিযান শুরু করে। লেবানন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন হয়েছে এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই যুদ্ধে অন্তত ৪০০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে লেবাননকেও এই চুক্তির আওতায় আনার জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। নেতানিয়াহুর এই আলোচনা শুরুর প্রস্তাব সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার মতো কঠিন শর্ত লেবানন বা এই গোষ্ঠীটি মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।