ইরান আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলের দিকে একাধিক ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোতে বোমা হামলার পরিকল্পনা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠে, যার মধ্যে তেল আবিবও ছিল। রাজধানী শহরে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়। ক্ষয়ক্ষতি সরাসরি আঘাতে হয়েছে, নাকি প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।
ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানায়, তেল আবিবের একটি ভবনে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বেসামরিক লোকজনের সন্ধান করা হচ্ছিল। আরেকটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের আশ্রয়কেন্দ্রেও বেসামরিক লোকজনকে পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানায়, গতকাল সোমবার তাদের যুদ্ধবিমান তেহরানের কেন্দ্রস্থলে বড় আকারের হামলা চালায়। এতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা এবং ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। রাতভর আরও ৫০ টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও উৎক্ষেপণস্থলও রয়েছে।
এরপর, গতকাল সোমবার নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে শত্রুতা অবসান’ নিয়ে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। এর ফল হিসেবে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয় তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা কার্যকর করার পরিকল্পনা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। তবে এই বিরতি কেবল ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফর এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। হুমকির জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামোতে হামলা চালাবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।