ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং পাঁচটি ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আইআরজিসি এই দিনটিকে শত্রুপক্ষের আকাশশক্তির জন্য একটি ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে অভিহিত করে নিজেদের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।
আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। ধ্বংস করা লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: খোমেন ও জানজান প্রদেশের আকাশে এগুলোকে ইন্টারসেপ্ট বা বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
দুইটি এমকিউ-৯ অ্যাটাক ড্রোন: অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত এই ড্রোন দুটিকে ইসফাহানের আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।
একটি হার্মিস ড্রোন: ইসরায়েলি প্রযুক্তির এই ড্রোনটি বুশেহর প্রদেশের আকাশে ভূপাতিত করা হয়।
অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান: মধ্য ইরানে একটি অজ্ঞাত কিন্তু ‘অ্যাডভান্সড’ বা আধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে আইআরজিসি-র ইউনিটগুলো।
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে এই নিখুঁত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, প্রতিনিয়ত উদ্ভাবনী রণকৌশল এবং কঠোর পর্যবেক্ষণের ফলে ইরানের আকাশসীমা এখন যেকোনো শত্রু বিমানের জন্য ‘মৃত্যুকূপ’ বা চরম অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখে দিতে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর থেকে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সাফল্যকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোনের বহর ব্যবহার করে দখলকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আইআরজিসি-র এই দাবি অনেকটা মিলে যাচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধের এক মাস পার হলেও ইরানের অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার ও ড্রোন এখনো অক্ষত রয়েছে। আইআরজিসি-র এই শক্তিশালী অবস্থান প্রমাণ করে যে, তারা কোনো স্বল্পমেয়াদি সংঘাত নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের আকাশসীমা রক্ষায় তারা কোনো আপস করবে না।