মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি সীমানার বাইরে ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেল আবিব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের মতে, এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ইয়েমেন আবারও সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। এর ফলে ইরান এবং হিজবুল্লাহর পাশাপাশি ইসরায়েলকে এখন তৃতীয় একটি ফ্রন্টের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ ছিল। এর আগে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে এবং ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে তারা নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে যুদ্ধের এক বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে চলমান আলোচনায় ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতেই হুতিরা এই নতুন চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত গ্রুপটি বলেছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং ফিলিস্তিনে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা এবং বেসামরিক নাগরিক হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলা চালানো হয়েছে।
‘ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত... এবং সমস্ত প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত’ এই হামলা চলবে বলেও জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।
এদিকে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সরকারের রণকৌশল নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দেশটির সেনাপ্রধান সামরিক বাহিনীতে ‘ফ্যাটিগ’ বা ‘ক্লান্তি’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফলে সৈন্যদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল বা স্থল অভিযান চালানো ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে। একদিকে গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সীমান্ত যুদ্ধ—সব মিলিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন চরম চাপের মুখে। এই অবস্থায় ইয়েমেনের পক্ষ থেকে আসা তৃতীয় ফ্রন্টের হুমকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসরায়েলকে তাদের বর্তমান রণকৌশল পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক সামরিক বিশ্লেষক।