ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির যে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা আসলে একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ। তেহরানের ধারণা, এই আলোচনার অজুহাতে টিকে থাকা সর্বশেষ পর্যায়ের গুটিকয়েক শীর্ষ নেতাকে বের করে আনা এবং পরে অতর্কিত হামলার মাধ্যমে তাঁদের হত্যা করাই এই আমন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের নেতারা উদ্বিগ্ন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যেকোনো সরাসরি আলোচনা আসলে একটি কৌশলমাত্র। এর মাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বোঘেরে কালিবাফকে জনসমক্ষে বের করে এনে হত্যার পরিকল্পনা করা হতে পারে। কালিবাফ একজন সাবেক আধা সামরিক কমান্ডার এবং সাম্প্রতিক বিমান হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইরানের হাতে গোনা কয়েকজন সিনিয়র নেতার মধ্যে অন্যতম। শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে কালিবাফকে উপস্থিত থাকার শর্ত দিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তা এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা আরব প্রতিনিধিদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা আসলে একটি চাল। তাঁদের দাবি, পুনরায় হামলা শুরু করার আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ট্রাম্প এই সময় নিচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, তেহরানের নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস যে আলোচনার টেবিলে বসা মানেই নিজেদের অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া, যেখানে কূটনীতির আড়ালে লুকিয়ে আছে সামরিক গুপ্তহত্যার নীলনকশা।