বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে আবারও মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে করোনাকালের মতো পুরোপুরি অনলাইননির্ভর না হয়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে সমন্বিত বা ‘ব্লেন্ডেড’ শিক্ষাপদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান এবং শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে (সশরীর) ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি বা মিশ্রণ শিক্ষণ বলতে প্রথাগত সশরীর শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং ডিজিটাল বা অনলাইন প্রযুক্তির সমন্বয়কে বোঝায়। এতে শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠ গ্রহণ করবে এবং পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পাঠদান চলবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্লেন্ডেড শিক্ষাপদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শিগগির এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার সম্মতি পেলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জোড়-বিজোড় দিনের ভিত্তিতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালনা করা হতে পারে। শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস নেবেন এবং প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো অফলাইনে অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও প্রভাবিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রোজা ও ঈদের ছুটি মিলিয়ে প্রায় ৪০ দিনের বিরতির পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে।
জানতে চাইলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষকেরা এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। আশা করছি, শিগগির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে আজ সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের ‘অনলাইন ও সশরীর’ দুই পদ্ধতিতেই ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি যে অনলাইনে এডুকেশনটা প্রমোশন করা...। আমরা এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করব। তারপরে এটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত আসবে।’
অনলাইনে ক্লাস চালুর ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটা যেহেতু বৈশ্বিক সমস্যা, শুধু বাংলাদেশের নয় এবং আমরা জানি না এই সংকট কত দিন চলবে; সে কারণে আমরা ভাবছি, অনলাইন-অফলাইন দুই সিস্টেমে আমাদের ক্লাস নেওয়ার সিস্টেম প্রবর্তন করা যায় কি না। মনে করেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন ক্লাস ছিল। আমরা এসব ক্লাস লস করেছি রোজার ছুটিতে এবং বিভিন্ন রকম আন্দোলন—সব মিলিয়ে...। এখন আমরা স্কুল আওয়ারটাকে সিক্স ডেইজে উইক করছি। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট কারণে আমরা অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতি নিয়েই ভাবছি।’
দুই পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে একটি জরিপের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা একটা জরিপ করেছি। সেই সার্ভেতে ৮৫ শতাংশ মানুষ চাচ্ছে, তারা যেন অনলাইনে যায়। কিন্তু পুরোপুরি অনলাইনে যাওয়া হলে আমরা আবার অসামাজিক হয়ে যাব। এটা নিয়ে ভাবছি।’