ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টানা ১০ দিন জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং চালুর পর তা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জ্বালানিস্বল্পতা ও সরবরাহ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৫ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব বিতরণ কেন্দ্র থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।’
সরকার রোববার থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করছে—এমন খবর এক দিন আগেই প্রকাশ হয়েছিল। তবে আজও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কয়েকটি পেট্রলপাম্পের কর্মীরা জানান, তাঁরা এখনো ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। ফলে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ দিতে গিয়ে একপর্যায়ে মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
ঢাকার একটি ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী জানান, বিকেলে চার হাজার লিটার ডিজেল ও নয় হাজার লিটার অকটেন পাওয়া গেছে। অথচ দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার লিটার করে। ফলে রাতের দিকেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
দেশে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিলে ৬ মার্চ সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। মোটরসাইকেলে শুরুতে ২ লিটার সীমা থাকলেও ১০ মার্চ তা বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়। পাশাপাশি ৭ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল, যা ১১ মার্চ বিভাগীয় শহরে কিছুটা বাড়ানো হয়।
এদিকে চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে ফিলিং স্টেশন মালিকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গত শনিবার খুলনায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখেন তাঁরা। একই ধরনের পরিস্থিতি হলে রাজশাহীতেও তেল উত্তোলন বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়।