রাজধানীর মিরপুরে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে আগুনে আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যার মৃত্যুতে তাঁর নীলফামারীর সৈয়দপুরে চাচা-ফুফুদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শোকার্ত স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছেন। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সৈয়দপুরের বিমানবন্দর পূর্বপাড়া এলাকায় অনন্যার চাচা-ফুফুদের বাড়িতে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
অনন্যা ওই এলাকার আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে এবং তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে অনন্যা ঢাকার মিরপুর-২-এর বহুতল ভবনের শপিং মলে যান। বেলা ১টা ৫২ মিনিটে ওই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ভবনে আটকা পড়েন অনেকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আটকা পড়া ২৪ জনকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিমানবাহিনীর দুই সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা অনন্যা ও শেখ রাকিবুজ্জামান। মৃত রাকিবুজ্জামানের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায়।
অনন্যার চাচা আবুল কালাম আজাদ জানান, তাঁর ভাতিজির পরিবার খুব গরিব। অনন্যা চাকরি পাওয়ার পরে তাঁর পরিবার কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ছোট বোন সুর্বণা আকতারকে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ ফোন দিয়ে জানায়, মিরপুরে শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় শেখ রাকিবুজ্জামান নামের বিমানবাহিনীর সদস্য মারা গেছেন এবং অনন্যা নিখোঁজ রয়েছেন। পরে সেটা জানার পরে তাঁর বাবা-মা ও ছোট বোন গতকাল রাতে গাড়িতে করে ঢাকা আসেন। পরে তাঁরা ফোন দিয়ে জানান, অনন্যা রাতেই মারা গেছেন।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অনন্যার জানাজা সৈয়দপুরের নিচুকলোনি ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে আমরা তাকে তার নানির কবরের পাশে দাফন করব।’
অনন্যার ফুফু ফরিদা পারভীন বুলবুলি বলেন, ‘আমি তাকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসি। সে যখন চাকরিতে যায়, তখন তাকে ছাড়তে কষ্ট পেয়েছি। সেই অনন্যা এভাবে হারিয়ে গেল, সেটা কীভাবে সহ্য করব। আমরা তাকে হারিয়ে সবকিছু হারিয়ে ফেললাম।’
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, ‘আমি পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি। তার পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সেটা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’