লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কালীরহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও স্থানীয়রা। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে সীমান্তে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও ওঠে। তবে বিজিবি কেবল পুশ-ইনের চেষ্টার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাক আজ সোমবার সকালে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টার তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে ককটেল বিস্ফোরণের কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজিবি ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৫৫ নম্বরের এক পাশে পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের কালীরহাট সীমান্ত এলাকা। বিপরীতে রয়েছে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা সীমান্ত।
সূত্রগুলো জানায়, গতকাল রাত ৯টার দিকে ওই সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের সঙ্গে স্থাপিত উচ্চক্ষমতার ফ্লাডলাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এ সময় ভারতের ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দাওয়ারিমারী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ৩ থেকে ৫ জনকে কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) কালীরহাট ক্যাম্পের টহল দল স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তসংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং বিএসএফকে সতর্কবার্তা দেয়। এর পর বিজিবি ও স্থানীয়দের অবস্থানের কারণে বিএসএফ পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পুশ-ইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, এ ধরনের একাধিক চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সীমান্তসহ জেলা ও উপজেলার অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় সতর্ক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘তিনজন ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তর থেকে এনে কাঁটাতারের বেড়ার সার্চ লাইট বন্ধ করে গেইট দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির সক্রিয় অবস্থানের কারণে কোনো পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
তবে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগের বিষয়ে লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম কোনো মন্তব্য করেননি।