চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শিশু রুবেল হত্যার ১৭ দিনেও রহস্য উন্মোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের শনাক্ত এবং আটকের দাবিতে আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের পাটওয়ারীর বাজারে এবং শিশুটির বাড়ির সামনে পৃথক মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিশুটির বাবা আব্দুল কাদের, মা পরান বেগম, এলাকাবাসীর পক্ষে ইউপি সদস্য আবু সাদেক, মো. ইব্রাহিম খান, মোশারফ হোসেন বতু, রহমত উল্লাহ তালুকদার, জাহাঙ্গীর খান, তুহিন হাসান চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আট বছরের একটি শিশুর কোনো শত্রু থাকার কথা নয়। তা ছাড়া, সে মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থাকে, মাহে রমজান উপলক্ষে বাড়িতে এসেছে। প্রতিদিনের ন্যায় ১০ মার্চ তারাবির নামাজ আদায় করতে বেরিয়ে নৃশংস খুনের শিকার হয় সে। এ ঘটনার পর ১৭ দিন হলেও পুলিশ হত্যার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকারীদের আটক করতে পারেনি। এতে এলাকার অভিভাবকেরা আতঙ্কে রয়েছেন, শিশুরা ভয়ে ভয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১০ মার্চ ইফতারের পর তারাবি নামাজ আদায় করতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় নুরানি মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। প্রায় চার ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ের পাশে মেলে তার রক্তাক্ত লাশ। শিশুটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। নিহত রুবেল স্থানীয় সানকিসাইর মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের ছাত্র। সংবাদ পেয়ে থানা-পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ১১ মার্চ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুরে পাঠায়। পরে এ বিষয়ে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? সে কী অপরাধ করেছিল? আমরা জানতে চাই, খুনিদের বিচার চাই।’
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘লাশটি উদ্ধারের পর হত্যা মামলা করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’