হোম > বিশ্লেষণ

লক্ষ্য অর্জনে বারবার ব্যর্থ, তবুও কেন গুপ্তহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ এবং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনিকে হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা গুপ্তহত্যার কৌশল আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ড কি কেবল একটি সামরিক জয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর রাজনৈতিক অঙ্ক?

ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ ইলান পাপ্পের মতে, শীর্ষ নেতাদের হত্যার এই কৌশল ইসরায়েলের জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৪০-এর দশক থেকেই জায়নবাদী নেতৃত্ব ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের কণ্ঠরোধ করতে এই পথ বেছে নিয়েছে। গত কয়েক দশকে হিজবুল্লাহ, হামাস এবং আইআরজিসির বহু শীর্ষ নেতাকে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের গোয়েন্দা ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—এই কৌশল কি আসলেই ইসরায়েলকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?

ইলান পাপ্পে যুক্তি দেখিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডগুলো যতটা না সামরিক বিজয় অর্জনের জন্য, তার চেয়ে বেশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনমতকে শান্ত করার জন্য করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যখন বড় কোনো বিজয় অধরা থাকে, তখন একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে হত্যার খবর জনসাধারণের কাছে একটি ‘সাফল্য’ হিসেবে পেশ করা সহজ হয়। এটি মূলত নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

ইসরায়েল মনে করে, নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করলে কোনো সমাজ বা প্রতিরোধ আন্দোলন ভেঙে পড়বে। তবে ইতিহাস তার উল্টো সাক্ষ্য দেয়। ইলান পাপ্পের মতে, এ ধরনের অপারেশনগুলো মুক্তিপাগল মানুষের মনোবল ভাঙার পরিবর্তে তাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে তোলে। জেনারেল নায়িনির মতো একজন মুখপাত্রকে হত্যার ফলে ইরানের প্রোপাগান্ডা মেশিনারিতে সাময়িক ধাক্কা লাগলেও, এটি ইরানকে আরও আগ্রাসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল নায়িনির হত্যাকাণ্ড কেবল একটি আইনি বা নৈতিক বিতর্ক নয়, বরং এটি সরাসরি যুদ্ধের উসকানি। ইরান বারবারই ‘কঠোর প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যখন কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং এ ধরনের ব্যক্তিগত পর্যায়ের আক্রমণ শুরু হয়, তখন যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ আর কারও হাতে থাকে না।

ইসরায়েলের এই কৌশল হয়তো সাময়িকভাবে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে, কিন্তু এটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলছে। কোনো বিশেষ নেতার মৃত্যুতে আদর্শ বা আন্দোলন যদি শেষ না হয়, তবে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড কেবল সংঘাতের একটি নতুন চক্রই তৈরি করবে। পৃথিবী এখন তাকিয়ে আছে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—যেটি নির্ধারণ করবে এই অঞ্চল সরাসরি যুদ্ধের দিকে যাবে নাকি প্রচ্ছন্ন ছায়া যুদ্ধের (Proxy War) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলায় উন্মুক্ত ‘প্যান্ডোরার বাক্স’, উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে

ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন নয়: ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটি অন্য কিছু

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য আলাদা

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা: নয়া পর্যায়ে যুদ্ধ, উপসাগরীয় দেশগুলো কি ইরানে পাল্টা আঘাত হানবে

চার্চিলের তেলের লোভ, খোমেনির দর্শন: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার আদিপাপ

আলী লারিজানি: নিভৃতচারী দার্শনিক থেকে কট্টর রাজনীতিক হয়ে উঠেছিলেন যেভাবে

শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে হাত ছিল ইসরায়েলের: গোপন নথি প্রকাশ

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হত্যা: আলোচনার পথ রুদ্ধ করার কৌশল ইসরায়েলের

ইরান ও ইউক্রেনের পর আরও এক যুদ্ধের মেঘ জমছে

সংঘ সমাজ বনেগা—আরএসএসের মুখোশ উন্মোচন