হোম > বিশ্লেষণ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে হিলিয়াম সংকট—ব্যাহত হতে পারে এমআরআই সেবা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

রোমের একটি হাসপাতালের ছবি। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ফলে চিকিৎসা খাতের অতিপ্রয়োজনীয় এমআরআই স্ক্যান থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতো উচ্চপ্রযুক্তির খাতগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। মূলত প্রধান উৎপাদনকারী দেশ কাতারের উৎপাদন বন্ধ হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত ১৯০ মিলিয়ন ঘনমিটার হিলিয়ামের এক-তৃতীয়াংশই (৬৩ মিলিয়ন ঘনমিটার) সরবরাহ করে কাতার। গত ২ মার্চ কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ শিল্পাঞ্চলে ইরানি হামলার পর কাতারএনার্জি তাদের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে। যেহেতু এলএনজি উৎপাদনের উপজাত হিসেবেই হিলিয়াম পাওয়া যায়, তাই এলএনজি উৎপাদন কমলে হিলিয়ামের সরবরাহও কমে যায়।

হিলিয়াম গ্যাসকে সাধারণত তরল অবস্থায় বিশেষায়িত ‘ক্রায়োজেনিক’ কন্টেইনারে করে সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়। তরলীকরণের ৪৫ দিনের মধ্যে এটি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো জরুরি, অন্যথায় তাপমাত্রার কারণে তা গ্যাসে রূপান্তরিত হয়ে উড়ে যায়। কাতারের রপ্তানি করা প্রায় সব হিলিয়ামই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হয়। কিন্তু গত ২ মার্চ থেকে আইআরজিসি এই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

এমআরআই স্ক্যানে কেন হিলিয়াম জরুরি

হিলিয়াম ছাড়া এমআরআই মেশিন চালানো প্রায় অসম্ভব। এর কারণ হলো—হিলিয়ামকে পরম শূন্য তাপমাত্রার (জিরো কেলভিন) কাছাকাছি শীতল করা যায়, যা এমআরআই মেশিনের সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বকগুলোকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রই মানুষের শরীরের ভেতরের পরিষ্কার ছবি তৈরি করতে সক্ষম।

বর্তমানে বিশ্বের মোট হিলিয়ামের এক-চতুর্থাংশই ব্যবহৃত হয় এমআরআই মেশিনের চুম্বক ঠান্ডা রাখতে। বিকল্প না থাকায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

স্মার্টফোন, গাড়ি, ডেটা সেন্টার ও সামরিক সরঞ্জামের চিপ তৈরিতেও হিলিয়াম কুলিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি অন্য কোনো রাসায়নিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে চিপকে দূষিত করে না। এ ছাড়া এটি বেলুন, ওয়েদার বেলুন এবং এয়ারশিপেও ব্যবহৃত হয় কারণ এটি বাতাসের চেয়ে হালকা এবং অদাহ্য।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান ও চীন হলো কাতারের হিলিয়ামের প্রধান ক্রেতা। দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা কিম ইয়ংবে ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ফলে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হবে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স-বক্সের তথ্যমতে, এই স্থবিরতা ৬০ থেকে ৯০ দিন স্থায়ী হলে হিলিয়ামের দাম ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

তবে হিলিয়াম সংকটের এই সংকট নতুন নয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের পর এটি পঞ্চম হিলিয়াম সংকট। এর সমাধানে গবেষকেরা ‘হিলিয়াম-মুক্ত’ এমআরআই স্ক্যানার এবং হিলিয়াম পুনর্নবীকরণ করতে পারে এমন মেশিন তৈরির চেষ্টা করছেন। ২০০২ সালে চীন এমন একটি প্রযুক্তি তৈরির দাবি করেছিল। তবে বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ হাসপাতালেই তরল হিলিয়াম-নির্ভর মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে।

কূটনীতি ব্যর্থ হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে

বাংলাদেশ যে কারণে এশিয়ার উন্নয়ন মডেলের সর্বশেষ উদাহরণ হতে পারে

মধ্যপ্রাচ্যে কোন ধরনের সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের কাজ কী

আলোচনার টেবিলে শক্ত অবস্থানে কে—ইরান না যুক্তরাষ্ট্র?

ইউক্রেনে রাশিয়ার কৌশল যেভাবে কাজে লাগাচ্ছে মিয়ানমার জান্তা

ইরান যুদ্ধে ‘ইয়ো-ইয়ো’ নীতি: শুরু থেকে যেসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প

যুদ্ধ থেকে ইরান কী চায়, অর্জন কতটা সম্ভব—তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের নিবন্ধ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কি সত্যিই শুরু হয়েছে

ধাতুর বাজার থেকে উধাও ২ ট্রিলিয়ন ডলার, সোনার ওপর আস্থা তলানিতে কেন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কূটনৈতিক খেলোয়াড় হয়ে উঠল পাকিস্তান, ৬ চ্যালেঞ্জের মুখে ‘বিশ্বগুরু’ মোদি