সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকের পর তারা ‘অত্যাধুনিক শ্রেণির অস্ত্র’ উৎপাদন চার গুণ বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। গত শুক্রবারের সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্বতন রেথিয়ন বা বর্তমান আরটিএক্স করপোরেশন, লকহিড মার্টিন, বোয়িং, নরথ্রপ গ্রুম্যান, বিএই সিস্টেমস, এল-৩ হ্যারিস টেকনোলজিসের মিসাইল সলিউশন বিভাগ এবং হানিওয়েল অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহীরা।
এই কোম্পানিগুলোর কাছে ইতিমধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্ডার জমে আছে। এর কিছু অর্ডারের পরিমাণ এমন, তা অনেক দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়েও বড়। ২০২৫ সালে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার সামরিক ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক ব্যয়কারী দেশ। এই ব্যয় পরবর্তী ৯টি দেশের সম্মিলিত ব্যয়ের বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে এই ব্যয় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়নে উন্নীত করা।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে অস্ত্রের পেছনে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। ফলে যুদ্ধ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে; যেমন নরথ্রপ গ্রুম্যানের শেয়ারদর বেড়েছে ৫ শতাংশ, আরটিএক্সের সাড়ে ৪ শতাংশ এবং লকহডি মার্টিনে ৩ শতাংশ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন অস্ত্র ব্যবহার করছে এবং এই দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠা সংঘাতে কোন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে?
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোন অস্ত্র ব্যবহার করছে
ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের তথ্য বলছে, অপারেশন এপিক ফিউরির অভিযানে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মিলিয়ে ২০টির বেশি ভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা তিন দশক ধরে পেন্টাগনের সবচেয়ে পছন্দের দূরপাল্লার হামলার অস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাবসনিক গতিতে উড়ে এবং রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে ভূমির কাছাকাছি নিচু উচ্চতায় পথ অনুসরণ করে। আরব সাগরে অবস্থান করা আর্লে বার্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ার থেকে এগুলো ছোড়া হয়েছে। প্রতিটি ডেস্ট্রয়ার ৯০টির বেশি টমাহক বহন করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল বা পিআরএসএম ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এম ১৪২ হিমার্স সিস্টেম থেকে মরু অঞ্চলে। স্বল্পপাল্লার এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং টার্মিনাল হাই অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড। প্যাট্রিয়ট সিস্টেম স্বল্পপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিচু উচ্চতায় আসা হুমকি মোকাবিলা করে। অন্যদিকে থাড বেশি উচ্চতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের পতনের শেষ পর্যায়ে প্রতিহত করে।
ড্রোন
ইরানে হামলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে লো কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম বা লুকাস নামে একমুখী আক্রমণ ড্রোন। এটি তৈরি করেছে স্পেক্ট্রে ওয়ার্কস এবং নকশা করা হয়েছে ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে। প্রতি ইউনিট লুকাসের দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। এটি তুলনামূলক সস্তা ও ব্যবহার শেষে ধ্বংসযোগ্য অস্ত্রের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
এর তুলনায় এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত। এই ড্রোনও অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ১ মার্চ একটি রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধবিমান
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে-বি-১ ল্যান্সার বোমারু বিমান, বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোমারু বিমান, এফ-১৫ ঈগল যুদ্ধবিমান, এফ-২২ র্যাপটর যুদ্ধবিমান এবং এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টিলথ ফাইটার। এসব বিমান ব্যবহার করে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা ফেলে তেহরানের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করা হচ্ছে।
নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ইএ-১৮ গ্রাউলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে। এই বিমান শত্রুর রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশনা সিস্টেম জ্যাম করতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, পি-৮এ পোসাইডোন নজরদারি বিমান সমুদ্র ও স্থলজুড়ে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে। ফ্লাইট ডেটা অনুযায়ী এটিকে হরমুজ প্রণালির আশপাশে চক্কর দিতে দেখা গেছে।
গত মাসে মার্কিন বিমানবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে ই-৩ সেন্ট্রি নামে এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম রাডার বিমান। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া আরসি-১৩৫ গোয়েন্দা বিমান, যেমন কোবরা বল এবং রিভেট জয়েন্ট সংস্করণগুলো কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটি থেকে উড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, রাডার ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করছে।
নৌবাহিনী শক্তি
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরি যথাক্রমে আরব সাগর ও ভূমধ্যসাগরে মার্কিন নৌ উপস্থিতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আর্লে বার্ক ক্লাস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আক্রমণাত্মক শক্তি এবং এজিস কমব্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রদান করছে।
এই অস্ত্রগুলো কারা তৈরি করে
বোয়িং তৈরি করে বি-১ বোমারু, এফ-১৫, ইএ-১৮জি গ্রাউলার, পি-৮এ পোসাইডোন এবং আরসি-১৩৫ বিমান। এল-৩ হ্যারিস টেকনোলজিস আরসি-১৩৫ বিমানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সরবরাহ করে। নরথ্রপ গ্রুম্যান তৈরি করে বি-২ স্টিলথ বোমারু এবং ই-৩ সেন্ট্রির রাডার প্রযুক্তি। লকহিড মার্টিন তৈরি করে এফ-৩৫, এফ-২২, থাড, হিমার্স, এমজিএম-১৪০ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র এবং পিআরএসএম।
রেথিয়ন বা আরটিএস তৈরি করে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম। স্পেক্ট্রওয়ার্কস তৈরি করে লুকাস ড্রোন। জেনারেল অ্যাটমিক অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস তৈরি করে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। হান্টিংটন ইনগালস ইন্ডাস্ট্রিজ তৈরি করেছে দুই মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং জেরাল্ড আর ফোর্ড।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক কোম্পানি
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ প্রতিরক্ষা কোম্পানি ৬৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো আয় করেছে ৩৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় অর্ধেক। এরপর রয়েছে চীন—৮৮ বিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্য—৫২ বিলিয়ন ডলার, রাশিয়া—৩১ বিলিয়ন ডলার ও ফ্রান্স—২৬ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিএই সিস্টেমস, লিওনার্দো এসপিএ, এয়ারবাস, থেলিস গ্রুপ এবং রেইনমেটাল শীর্ষ ২০-এর মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তাদের অনেকের ব্যবসা দ্রুত বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার
সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ ১০০ প্রতিরক্ষা কোম্পানির তালিকায় ৩৯টি মার্কিন কোম্পানি রয়েছে। চীনের রয়েছে মাত্র ৮টি কোম্পানি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শীর্ষ পাঁচ মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি হলো—
১. লকহডি মার্টিন; ১৯৯৫ সালে লকহিড এবং মার্টিন ম্যারিয়েট্টার একীভূত হওয়ার মাধ্যমে কোম্পানিটি গঠিত হয়। ২০২৪ সালে এর আয় ছিল ৬৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরির জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে এর বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। এ বছর কোম্পানিটি পিএসি-৩ মিসাইল সেগমেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট দ্রুত উৎপাদনের জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে।
২. আরটিএক্স: রেথিয়ন এবং ইউনাইটেড টেকনোলজিক ২০২০ সালে একীভূত হয়ে আরটিএক্স গঠন করে। কোম্পানির তিনটি প্রধান খাত হলো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, জেট ইঞ্জিন এবং এভিওনিক্স। ২০২৪ সালে এর ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয় এসেছে প্রতিরক্ষা খাত থেকে।
৩. নরথ্রপ গ্রুম্যান: ১৯৯৪ সালে নরথ্রপ, গ্রুম্যান অধিগ্রহণের এই কোম্পানি গঠিত হয়। স্টেলথ বিমান, যেমন বি–২১ রেইডার, মহাকাশ ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি থেকে কোম্পানিটি আয় করে। ২০২৪ সালে এর প্রতিরক্ষা আয় ছিল ৩৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
৪. জেনারেল ডায়নামিকস: এই কোম্পানি পারমাণবিক সাবমেরিন, যুদ্ধ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং গালফস্ট্রিম বাণিজ্যিক বিমান তৈরি করে। ২০২৪ সালে এর প্রতিরক্ষা আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
৫. বোয়িং: ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির বেশির ভাগ আয় আসে বাণিজ্যিক বিমান, প্রতিরক্ষা প্রকল্প এবং মহাকাশ প্রযুক্তি থেকে। এর তৈরি সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এফ/এ-১৮ ই/এফ সুপার হর্নেট, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি এবং সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার এবং পাশাপাশি পি-৮ পোসাইডোন। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা খাত থেকে এর আয় ছিল ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
ইসরায়েলের বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি
সিপ্রির তালিকায় ইসরায়েলের তিনটি কোম্পানি রয়েছে। সেগুলো হলো—
১. এলবিট সিস্টেমস: ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা, যুদ্ধক্ষেত্রের ইলেকট্রনিকস ও সামরিক অপটিকসে বিশেষজ্ঞ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা আয় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। ২. ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ কোম্পানি। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, স্যাটেলাইট, যুদ্ধ ড্রোন ও রাডার প্রযুক্তিতে কাজ করে। ২০২৪ সালের আয় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং ৩. রাফাল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেমস: এই কোম্পানিও রাষ্ট্রায়ত্ত। এরা তৈরি করেছে বিখ্যাত আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। পাশাপাশি নির্ভুল নির্দেশিত গোলাবারুদ সরবরাহ করে। ২০২৪ সালের প্রতিরক্ষা আয় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানির শেয়ার বেড়েছে
সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর প্রতিরক্ষা খাতে শত শত বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হবে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া গোলাবারুদ মজুদ পূরণ করতে বড় অস্ত্র কোম্পানিগুলো নতুন অর্ডারে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শেয়ারের দামও বাড়ছে। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামের বৃদ্ধিতে দেখা গেছে—আরটিএক্স ১১০ শতাংশ বৃদ্ধি, নরথ্রপ গ্রুম্যান ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি, জেনারেল ডায়নামিকস ৫৭ শতাংশ, লকহডি মার্টিন ৩৭ শতাংশ এবং বোয়িং ৫ শতাংশ।