মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন টেক জায়ান্টদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালানো হবে।
আইআরজিসি-র অফিশিয়াল নিউজ আউটলেট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোট ১৮টি কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এই কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হামলায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং ট্র্যাকিংয়ের কাজে সরাসরি জড়িত। এই তালিকায় মেটা (ফেসবুক), এনভিডিয়া, ওরাকল, টেসলা, এইচপি, ইন্টেল এবং আইবিএম-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তালিকায় একমাত্র অ-মার্কিন প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি ‘জি-৪২’।
বিবৃতিতে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার রাত ৮টা থেকে এই স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ শুরু হবে। প্রাণহানি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীদের অবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাসে ইরান ড্রোন হামলার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত আমাজনের বেশ কিছু ডাটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের অবকাঠামোগুলো যুদ্ধের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল অঙ্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিনিয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব গত এক বছরে এআই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যকে একটি অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করলেও, এই যুদ্ধ সেই পরিকল্পনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যদি গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের ডাটা সেন্টার বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়, তবে তার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং আর্থিক লেনদেনে পড়বে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।