হোম > খেলা > ক্রিকেট

কাশ্মীরের ইতিহাস গড়ে ভারতীয় দলে কড়া নাড়ছেন নবি

কারিমুল ইসলাম, ঢাকা

প্রথমবারের মতো জম্মু-কাশ্মীরকে শিরোপা জিতিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন আকিব নবি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি এখনো। তবে ভারতীয় ক্রিকেটে এখন বেশ আলোচিত নাম আকিব নবি। রঞ্জি ট্রফির ৬৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে জম্মু-কাশ্মীর। ১০ ম্যাচে ৬০ উইকেট নিয়ে প্রথমবার ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট জয়ের নেপথ্য নায়ক তিনি।

সদ্য শেষ হওয়া রঞ্জি ট্রফিতে নবি দেখিয়েছেন একটি টুর্নামেন্টে কতটা ধারাবাহিক থাকা যায়, বড় ম্যাচে চাপ সামলে কীভাবে সেরাটা দেওয়া যায়। নবির বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় গুণ হলো অসাধারণ লাইন-লেন্থে টানা বোলিং করে যাওয়া। এই যোগ্যতাই তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। বলের গতি খুব বেশি না হলেও ইনসুইং, আউট সুইংয়ের পাশাপাশি নতুন-পুরোনো দুই বলেই ব্যাটারদের বোকা বানাতে পারেন নবি। সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের পেস আক্রমণের সদস্য হওয়ার সব অস্ত্রই আছে তাঁর হাতে।

নবির বোলিংয়ে মুগ্ধ জম্মু-কাশ্মীরের বোলিং কোচ কৃষ্ণ কুমার। একই সঙ্গে কৃষ্ণর কিছুটা আক্ষেপও রয়েছে নবিকে নিয়ে। কাশ্মীরের বোলিং কোচ বলেন, ‘‘রঞ্জি, দিলীপ ট্রফির মতো টুর্নামেন্টই তো জাতীয় দলে ঢোকার দরজা। পেসার হিসাবে ভারতের পিচে দুই মৌসুমে ১০০ উইকেট নেওয়া সহজ নয়। নবি সেটা করে দেখিয়েছে। সে ভারতীয় দলের আশপাশে নেই। অন্তত ভারত ‘এ’ দলে নেওয়া উচিত। এখন যেন কেউ না বলে, আরও এক বছর ওকে অপেক্ষা করতে হবে। পেসার বলতেই সবাই গতির কথা বলে। কিন্তু দেখুন নবি সব ধরনের পিচে বল হাতে সফল। নতুন বলে যেমন উইকেট নেয়, তেমনই পুরোনো বলে। বাংলার মতো ধারাবাহিক দলকে ৯৯ রানে অল আউট করা সহজ নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই মুহূর্তে ওর চেয়ে ভালো পেসার নেই।’’

২০২৫-২৬ রঞ্জি ট্রফিতে ৬০ উইকেট নিয়ে অনন্য কীর্তি গড়েছেন আকিব নবি। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভারতীয় দলে কড়া নাড়ছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত

রঞ্জি ট্রফিতে নবির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। এই পেসারকে ভারতীয় দলে দেখতে চান তিনি। ফাইনালের চতুর্থ দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সৌরভ লেখেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর দেখিয়ে দিল, পরিশ্রম ও ক্ষুধা থাকলে কী করা সম্ভব। ওরা ওদের রাজ্যকে গর্বিত করেছে। কঠিন পরিবেশ মানুষকে শক্তিশালী করে। আকিব নবি জাতীয় দলে খেলার যোগ্য। ইংল্যান্ডে তার অভিষেক হওয়া উচিত।’

ইতিহাস গড়ার পথে ফাইনালে কর্ণাটককে হারিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। ডিআর বেন্দ্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরশ দোগরার দল প্রথম ইনিংসে করেছিল ৫৮৪ রান। জবাবে নবির বোলিং তোপে পড়ে কর্ণাটক থামে ২৯৩ রানে। প্রতিপক্ষের মাঠে আগুন ঝরানো বোলিংয়ে কর্ণাটকের প্রথম সারির ৫ ব্যাটারের চারজনকেই ফেরান এই পেসার। এই তালিকায় আছেন লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, করুণ নায়ারের মতো ক্রিকেটাররা, যাঁদের ভারতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় ২৩-৭-৫৪-৫। কর্ণাটকের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নবির এমন বোলিং-ই জম্মু-কাশ্মীরের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকে শিরোপা জেতে কাশ্মীর।

শুধু ফাইনাল নয়, টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নবি। ১০ ম্যাচে নিয়েছেন ৬০ উইকেট। রঞ্জি ট্রফির ৯২ বছরের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে এক মৌসুমে ৬০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন নবি। সবশেষ মৌসুমে সাতবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে রঞ্জিতে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ১৫ বার। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুতেই ডেল স্টেইনকে আদর্শ মানতেন তিনি। নিজের বোলিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আরও আগেই বারমুল্লার ‘ডেল স্টেইন’ উপাধি পেয়েছেন নবি।

যাঁকে নিয়ে এত কথা, সেই নবির অনুভূতি কী? বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে নামকরা চিকিৎসক হবেন, মানুষের সেবা করবেন, উজ্জ্বল করবেন বাবার মুখ। কিন্তু ২২ গজে যাঁর ধ্যান-জ্ঞান তাঁকে দিয়ে কি আর অন্য কিছু হয়! বাবার দেখানো স্বপ্নের পথে না হেঁটে ক্রিকেটকে নেশা বানিয়েছেন নবি। নিজের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নই তাঁকে পরিচিতি এনে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে, জম্মু-কাশ্মীরকে দিয়েছে ইতিহাস গড়ার উপলক্ষ। প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতায় বাকি সতীর্থদের মতো নবি নিজেও বেশ অভিভূত। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ে যে কাশ্মীর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেটা বিশ্বাসই হচ্ছে না তাঁর। নবি বলেন, ‘আমরা রঞ্জি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি সেটা বিশ্বাস হচ্ছে না। যখন জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে খেলা শুরু করেছিলাম, তখনই আমার স্বপ্ন ছিল রাজ্যের হয়ে রঞ্জি ট্রফি জেতা। অনেক পরিশ্রম করেছি। পুরো দল এক সঙ্গে খেলেছে এবং আমরা সাফল্য পেয়েছি।’

দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে প্রস্তুত নবি। কাশ্মীরের এই পেসার বলেন, ‘আমি সব সময় ভালো লাইন-লেন্থে বল করার চেষ্টা করি। দলের জন্য সব সময় আমি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকি। নক-আউটে পৌঁছানোর পরে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার হয়ে যায়। আমার লক্ষ্যই ছিল প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব পারফর্ম করা যায়।’

নবির উঠে আসার পথটা মোটেও সহজ ছিল না। শ্রীনগরে অনুশীলন করতে বাড়ি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের পথ পাড়ি দিতে হতো তাঁকে। এমন অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং হার না মানা মানসিকতার ফলই পাচ্ছেন নবি। রঞ্জি ট্রফির সবশেষ দুই মৌসুমেই আলোচনায় ছিলেন তিনি। গত মৌসুমে ৪৪ উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখা নবি। মোহাম্মদ সিরাজ, জসপ্রীত বুমরার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে ভারতের জার্সিতে নবি খেলতে পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ হবে তো

বিশ্বকাপে ভরাডুবিতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কঠিন শাস্তি

অবশেষে দেশে মুশফিক

‘এটা আইপিএল না, মনে রাখুন এটা একটা বিশ্বকাপ’

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেন হেইডেন

সৌদি থেকে ফিরছেন মুশফিক, জানালেন কৃতজ্ঞতা

স্যামসন-ঝড়ে উইন্ডিজকে বিদায় করে সেমিফাইনালে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ভারতে আটকা জিম্বাবুয়ে

শৈশবের কোচের মৃত্যুতে মাহমুদউল্লাহর আবেগী পোস্ট

বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে তামিম যা শুনেছিলেন