জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কোনোভাবেই নতুন সংসদের অধিবেশন রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। এমনটি হলে ৩০০ সংসদ সদস্যকেই জনগণের কাছে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই সংসদের পবিত্রতা রক্ষার জন্য প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কোনোভাবেই এই সংসদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে না। যদি তা শুরু হয়, আমরা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমরা সবাই ৩০০ সংসদ সদস্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করব। ৩০০ সংসদ সদস্যকে এটার জবাব দিতে হবে।’
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা যাঁরা জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা ফ্যাসিবাদের সর্বশেষ উচ্ছিষ্ট রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আপনাদের প্রথম অধিবেশন শুরু করার মধ্য দিয়ে কলঙ্কিত হবেন না।’
জুলাই সনদের বিষয়ে আদালতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে আসিফ বলেন, ‘আমরা মনে করছি, বিএনপি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এবং জুলাই সনদে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে একধরনের স্বেচ্ছাচারিতা করার জন্য আদালতে গিয়েছে এবং একধরনের ডুয়েল গেম তারা খেলেছে।’
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘আদালতে এই জিনিসটা (জুলাই সনদ) চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে বিএনপি নিজের সরকারকে চ্যালেঞ্জ করল বলে আমরা মনে করছি। কারণ, এই একই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দিয়ে একধরনের ‘পপুলিস্ট উদারতা’ প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি পুরোনো বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি একসময় বলেছিলেন, জনগণের সরকার গঠিত হলে এই সংবিধান ‘ছুড়ে ফেলা হবে’। কিন্তু আজ তাঁর দল সরকারে থেকেও সেই সাহস দেখাতে পারছে না।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।