হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

তেল আছে বনাম তেল নেই

সম্পাদকীয়

সরকার বলছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। তাই বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও আমাদের দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এটা স্বস্তিদায়ক খবর বলে মনে হতে পারে। তাহলে কেন জ্বালানি তেল না পেয়ে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা? তেলের দাবিতে বরগুনা সদরের বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকর খেয়াঘাট এলাকায় নৌকা নিয়ে মানববন্ধনও করেছেন সেখানকার মৎস্যজীবী মানুষ। রাজধানীর জ্বালানি তেলের স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারিও বলছে তেল পেতে বেগ পোহাতে হচ্ছে চালকদের। এই দৃশ্য এখন খুব চেনা।

কৃষিযন্ত্র চালাতে তেল পাচ্ছেন না পাবনার কৃষকেরা। তাঁরা কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করেন, মন্ত্রীও তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। অবশ্য তেল নেই বলে যে কৃষকেরা তেল পাচ্ছেন না, তা নয়। কৃষিযন্ত্র বহন করে তেলের পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে কৃষকেরা ক্যানে করে তেল কিনে নিতেন। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী ক্যানে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ায় তাঁরা এখন বিপাকে পড়েছেন। অর্থাৎ, তেল থাকুক বা না থাকুক, বিপত্তি ঠিকই উপস্থিত!

জ্বালানি মন্ত্রণালয় আশার বাণী শোনাচ্ছে। বলছে, দেশে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। চলতি মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ টন ডিজেল দেশে আসবে। তবু তেলের সংকট কেন হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর জানা সহজ। সরকারের জবাব—ভোক্তাদের অপ্রয়োজনীয় ক্রয় এবং মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুত। কোথাও কোথাও অবৈধ মজুতদার এবং নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে যাঁরা বিক্রি করছেন, তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি দিচ্ছেন বলে এই সিন্ডিকেট ভাঙবে, এমন প্রত্যাশা নিশ্চয়ই জনগণ রাখতে চায়। কিন্তু যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে তেল কিনে মজুত করে রাখছেন, তাঁদের বিবেচনাবোধ কোথায়?

জরুরি জ্বালানি প্রয়োজন মেটাতে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল কেনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অথচ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে তো ক্রুড অয়েল আসতেও পারছে না বাংলাদেশে। কীভাবে ঘুচবে তাহলে জ্বালানি তেলের সংকট?

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিলে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বদলে লোহিতসাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করছিল। কিন্তু হুতিরা এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এশিয়ায় তেলের সংকট আরও বাড়বে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এদিকে বাংলাদেশও বিকল্প উৎস থেকে তেল-গ্যাস আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবু শঙ্কা কাটছে না। কারণ এ ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী হবে আরও অনেক রাষ্ট্র।

সরকারের পক্ষ থেকে যতই ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, খোদ সরকারে থাকা শিক্ষামন্ত্রীও জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া) সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা করছেন।

তেল আছে কি নেই—এমন দ্বিধায় জনগণ থাকতে চায় না। চায় দ্রুত এবং স্থায়ী সমাধান। আমাদের প্রত্যাশা—সরকার জনগণের চাহিদাকে প্রাধান্য দেবে।

দুর্ঘটনায় ম্লান উৎসব-আনন্দ

গোদাগাড়ী প্রেসক্লাব

বিচারব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা কাম্য

ইতিহাসই ইতিহাস হয়

অসম্পূর্ণ সেতুর কাজ

কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড নয় কি

আজ স্বাধীনতা দিবস

২৫ মার্চের বিভীষিকা

সম্প্রীতির ঈদুল ফিতর

খাল খননে বাধা