ভেঙে গেল বিসিবি কমিটি। তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড সভাপতিত্বেরও ইতি ঘটল। নতুন অ্যাডহক কমিটির ওপর এখন দায়িত্ব পড়েছে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তৈরি করার।
বিগত বোর্ডের কার্যকলাপ নিয়ে ক্রিকেটবোদ্ধারা অনেক ধরনের প্রশ্ন তুলেছিলেন। সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি উঠেছিল, তা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা। কার মাথা থেকে এ রকম সরেস সিদ্ধান্তটি এসেছিল, তা নিয়ে কথাবার্তা চলবে অনেক দিন ধরে। তবে, সে সময়ের ক্রীড়া উপদেষ্টার বিরামহীন সক্রিয়তা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা দায়ী, সে প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজবে বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বোর্ড সভাপতি এবং বোর্ডের কিছুসংখ্যক সদস্যও যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তাতে দেশপ্রেম কতটা ছিল, সে ব্যাপারেও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
ক্রীড়াক্ষেত্রে ক্রিকেটে আমরা যতটা অর্জন করেছি, সে রকম অর্জন আর কোনো খেলায় দেখাতে পারিনি। সেই ক্রিকেটকেই গ্রাম্য মোড়লের মতো পরিচালনা করতে গিয়ে কতটা ক্ষতি করা হয়েছে, তারও চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে এবং যারা এর জন্য দায়ী, তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কূটনীতির ধার না ধেরে সস্তা পপুলিস্ট কথাবার্তা জাতির কতটা ক্ষতি করেছে, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। এ ছাড়া ক্রিকেটারদের সম্পর্কে কোনো কোনো বোর্ড সদস্যের নির্দয় ও অপমানসূচক কথাবার্তা নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। একটি দেশের খেলাধুলা কারা নিয়ন্ত্রণ করে, এই নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের জন্য কতটা লাভজনক—সেসবও তো ভেবে দেখতে হবে।
নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি নিয়েও কথা থেকে যায়। ১১ জন মাত্র সদস্য যে কমিটিতে, সেখানে পাঁচজনকে কেন চট্টগ্রাম থেকে নেওয়া হলো, সে প্রশ্ন যেমন উঠেছে, তেমনি কমিটিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সন্তান ও স্ত্রীকে দেখে অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, ক্রিকেট বোর্ডটা একেবারে দলীয় বোর্ডে পরিণত হয়ে গেল না তো? ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার কথা অনেকেই বলেন বটে, কিন্তু নিজেরা ক্ষমতায় আসার পর নিজের লোক ছাড়া আর কাউকে যে তাঁরা খুঁজে পান না, সেটাও ক্রীড়াক্ষেত্র কলুষিত করার একটা কারণ হয়ে উঠতে পারে। সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, আরও স্পষ্ট করে বললে, ২০০-এর বেশি আসন পেয়ে গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে বিবেচনাহীন হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। প্রায়ই বলা হয়ে থাকে, ‘পাওয়ার টেন্ডস টু করাপ্ট অ্যান্ড অ্যাবস্যুলেট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবস্যুলেটলি’। কথাটা একেবারে মিথ্যে নয়। এই সতর্কবার্তাকে আমলে নিয়ে ক্রিকেটকে দেখা প্রয়োজন। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট মানুষেরা যেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত না হন, বরং দেশের সবার হয়ে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা করেন, সেটা সবার চাওয়া। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া, পাকিস্তানের সঙ্গে অযাচিত মাখামাখির ফল কী হয়েছিল—সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সে কথাগুলো মনে রাখতে হবে।
মাঠপর্যায়ের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা হলে ক্রমান্বয়ে আমরা ভবিষ্যতে সেই ক্রিকেটারদের পাব, যাঁরা বিশ্বের ক্রিকেট ইতিহাসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। এ জন্য দলনিরপেক্ষ হয়েই এগোতে হবে।